পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বাজারে বুধবার থেকে প্রতি লিটার ১০ টাকা কমে বিক্রি হবে সয়াবিন তেল। তবে তৃতীয় দিনেও বাজারে এর কোনো প্রভাব নেই। অধিকাংশ দোকানে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। এমনকি বাজারে তেল নিয়ে কোনো ধরনের মনিটরিংয়ের খবরও পাওয়া যায়নি। বলছেন ক্রেতারা বরছেন, এই সুযোগে অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা।
বিশ্ব বাজারে দাম কমায় দেশের বাজারেও গত মঙ্গলবার (১২ জুলাই) সয়াবিন তেলের দাম কমায় বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন, যা বুধবার থেকে কর্যকর হয়। প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১৮৯ টাকা থেকে ১০ টাকা কমিয়ে ১৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে আগের দামেই বিক্রি করতে দেখা গেছে সয়াবিন। সারা দেশের চিত্র একরকম বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কারওয়ান বাজার, রামপুরা বাজার, শান্তিনগর বাজার, মহানগর আবাসিক এলাকা, মগবাজার, ইস্কাটন গার্ডেনসহ রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা দোকানো ফ্রেস, রুপচাঁদা, পুষ্টি কোম্পানির এক লিটার সয়াবিন তেল ১৮৯ থেকে ১৯০ টাকা, দুই লিটার ৩৭৮ টাকা, পাঁচ লিটার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া খোলা সয়াবিন তেলের দামও লিটারে ৮ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হওয়ার কথা ১৫৯ টাকা। তবে আগের দাম ১৬৭ টাকায়ই বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা গেছে, কোম্পানি থেকে সয়াবিন তেলের নতুন বোতল আসার আগ পর্যন্ত পুরাতন দামে বিক্রি করবে বলে জানিয়েছে তারা। ক্রেতাদের ভাষ্য, বাজারে যেকোনো পণ্যের দাম বাড়লে নগদ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। আর দাম কমার ঘোষণা আসলে কচ্ছপ গতিতে কমে।
কারওয়ান বাজার এলাকার তালেব নামে এক ক্রেতা বলেন, গত মঙ্গলবার ঘোষণা হলো সয়াবিন তেল বুধবার থেকে ১০ টাকা কমে বিক্রি করবে বিক্রেতারা। কিন্তু আজকে আর কমে বিক্রি করছে না কোনো দোকানদার। এর চেয়ে দুঃখজনক কী আর হতে পারে।
মগবাজার এলাকার বাতেন নামে এক ক্রেতা বলেন, আমাদের দেশে কোনো পণ্যের দাম বাড়ার কথা শুনলেই বাড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু দাম কমার ঘোষণা এলেও দোকানদাররা মুখ অন্ধকার করে বসে থাকে। তারা আগের দামেই বিক্রি করে। আর যদি প্রশ্ন করা হয় দাম কমেছে আপনি কেন বেশি নিচ্ছেন। এর উত্তরে তারা বলে, নতুনটা এখনও আসেনি।
তিনি বলেন, সয়াবিন তেলের দাম ১০ টাকা কমার কথা থাকলেও এখনও বাজারে আগের দামেই বিক্রি করছে মুনাফালোভি ব্যবসায়ীরা। আর আমার মতো সাধারণ মানুষ মুনাফালোভীদের চাপে পিষ্ট।
কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেটের এসএ এন্টারপ্রাইজের মালিক রাফি বলেন, ফ্রেশ, রূপচাঁদা, পুষ্টি কোম্পানির সয়াবিন তেল আমরা পাইকারিতে এক লিটার ১৭০ টাকা, পাঁচ লিটার ৮৭৫ থেকে ৮৮০ টাকায় বিক্রি করি।
তিনি বলেন, সয়াবিন তেল আগের নির্ধারিত দামেই বিক্রি করছি। বললেই তো নতুন দামে বিক্রি করতে পারব না। কোম্পানি থেকে নতুন নির্ধারিত দামের তেল বাজারে এলেই ১০ টাকা কমে নতুন দামে বিক্রি করতে পারব।
কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেটের মেসার্স আঁখি এন্টারপ্রাইজের মালিক দিপু বলেন, এক লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৩৭ টাকায় বিক্রি করছি। আগের তেল শেষ হলে নতুন দামে বিক্রি করব।














