কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় ঘটনার এক দিন পর বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সাংবাদিকের ওপর হামলাকারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতবর ও তার ভাই মোজাহিদুল ইসলাম সেলিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (২১ এপ্রিল) ভোরে পুলিশের একাধিক টিম নজর আলী মাতবর পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সাংবাদিক মিজানুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনার পর আমরা যথাযথ মামলা গ্রহণ করি। মামলা নেওয়ার পর থেকে আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান শুরু হয়। তার প্রেক্ষিতে আজ রবিবার ভোররাতে কুতুবদিয়ার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের নজর আলী মাতবর পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, কুতুবদিয়ার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের মলমচর এলাকায় একটি অসহায় পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলাসহ তাদের লাশের মাংস খুঁজে না পাওয়ার প্রকাশ্যে হুমকির একটি ভিডিও প্রচার করায় বাংলাদেশ প্রতিদিন’র প্রতিনিধি মো. মিজানুর রহমানকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতব্বর।
শুক্রবার (১৯ এপ্রিল ) বিকেলে কুতুবদিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ঈদ পূনর্মিলনী অনুষ্ঠানের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে হত্যার হুমকি প্রদানকারী উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতবরের নেতৃত্বে হামলার শিকার হন বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সাংবাদিক মিজানুর রহমান।
মিজানুর রহমান জানান, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় হঠাৎ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতবরের নেতৃত্বে তার দুই ভাই আজমগীর মাতবর ও মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম এবং তাদের ছেলে আরিফ বিন রিনাস, সানজো রাকিব, মো. মোজাহিদ, মো. নিহাল উদ্দিন, মুহিদুল হাসান হান্নানসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জন সন্ত্রাসী হামলা চালায়।
আহত হওয়ার পর সাংবাদিক মিজানুর রহমানকে প্রথমে কুতুবদিয়া হাসপাতালে নিয়ে যায় তার সহকর্মীরা। সেখান থেকে তার অবস্থার অবনতি হলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
কক্সবাজার জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী জানান, আহত সাংবাদিক মিজানুর রহমানকে বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে সাংবাদিক মিজানুর রহমান বাদী হয়ে কুতুবদিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
কক্সবাজার জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এইচএম এরশাদ বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলাকারী যেই হোক না কেন তাকে কোনভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবির জানান, সাংবাদিক হত্যাচেষ্টা মামলায় কুতুবদিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আওরঙ্গজেব এবং তার ভাই মোজাহিদুল ইসলাম সেলিমকে গ্রেপ্তারপূর্বক আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির বিরুদ্ধে আরও তিনটি মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে, সাংবাদিকের ওপর হামলাকারী মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক মহল।