ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে। বিভিন্ন কেন্দ্রে ফজরের নামাজের পর থেকেই ভোটারেরা লাইনে দাঁড়িয়েছেন ভোট দিতে। কেন্দ্রগুলোতে সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা দিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হবে। তবে সাড়ে চারটার সময় লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের ভোট নেওয়া হবে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে ২০১৪ সালে ‘একতরফা’, ২০১৮ সালে ‘রাতের ভোট’ এবং ২০২৪ সালের ‘আমি-ডামির নির্বাচন’ দেশের নির্বাচনব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ভোটারদের একটি বড় অংশের অভিযোগ ছিল, তাঁরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি।
ফলে ছাত্র-জনতার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রায় দেড় বছর পর এই নির্বাচন ঘিরে ভোটারসহ দেশবাসীর উৎসাহের কমতি নেই। মুক্ত পরিবেশে নিজেদের মনমতো পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে এই অধিকার প্রয়োগের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে উন্মুখ প্রায় ১৩ কোটি ভোটার।
জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে আজ ভোট হবে ২৯৯টি আসনে। একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ছাড়া মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল। মোট প্রার্থী ২ হাজার ২৮ জন। এরমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী: ২৭৩ জন। মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি ইত্যাদি।
নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় মাঠে রয়েছেন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।