সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় হতাহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষীদের পরিচয় প্রকাশ করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
স্থানীয় সময় শনিবার দুপুরে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী এ ড্রোন হামলা চালায়। এতে ছয় বাংলাদেশি নিহত এবং আটজন আহত হন জানিয়ে গতকাল রবিবার তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়।
নিহতরা হলেন- কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা (নাটোর); সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম (কুড়িগ্রাম), শামীম রেজা (রাজবাড়ী) ও শান্ত মন্ডল (কুড়িগ্রাম); মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (কিশোরগঞ্জ) এবং লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া (গাইবান্ধা)।
আহত শান্তিরক্ষীরা হলেন- লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান (কুষ্টিয়া), সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন (দিনাজপুর), কর্পোরাল আফরোজা পারভিন ইতি (ঢাকা), ল্যান্স কর্পোরাল মহিবুল ইসলাম (বরগুনা); সৈনিক মো. মেজবাউল কবির (কুড়িগ্রাম), মোসা. উম্মে হানি আক্তার (রংপুর), চুমকি আক্তার (মানিকগঞ্জ) ও মো. মানাজির আহসান (নোয়াখালী)।
আইএসপিআর জানিয়েছে, আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে সৈনিক মেজবাউল কবিরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে; বর্তমানে তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। আহত অপর সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারযোগে স্থানান্তর করা হয়েছে; তাঁরা সবাই শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
সুদানে নিহত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পরিবারের প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সমবেদনা জানিয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, শান্তিরক্ষীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা কোনোভাবেই ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ এবং এটা ‘যুদ্ধাপরাধের শামিল’ হতে পারে। গতকাল রবিবার এক এক্স পোস্টে তিনি ওই হামলায় নিহতদের জন্য শোক এবং পরিবারের প্রতি সমাবেদনা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।
ওদিকে সুদানের সেনাবাহিনী ওই হামলার দায় র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) নামে দেশটির আধা সামরিক বাহিনীর ওপর চাপিয়েছে। দেশটিতে দুই বছরের বেশি সময় ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। দেশটির সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে এ লড়াই চলছে। আরএসএফ তাৎক্ষণিকভাবে হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
সুদানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, এ হামলা বিদ্রোহী মিলিশিয়া এবং এর পেছনে যারা আছেন, তাদের ধ্বংসাত্মক কৌশলের স্পষ্ট প্রকাশ। সুদান সেনাবাহিনী সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেছে। ভিডিওতে একটি স্থান থেকে ঘন কালো ধোঁয়া আকাশে উঠতে দেখা যাচ্ছে। তারা বলেছে, এটি জাতিসংঘের স্থাপনা।
যেখানে হামলা হয়েছে, সেই তেলসমৃদ্ধ অঞ্চল আবেই নিয়ে সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। ২০১১ সালে সুদান থেকে আলাদা হয়ে দক্ষিণ সুদান একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এরপর থেকে সেখানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন মোতায়েন রয়েছে। দুই দেশের সীমান্তে অবস্থিত আবেই বিশেষ প্রশাসনিক মর্যাদার অঞ্চল।














