পরিবারের হাল ধরতে স্ত্রী-সন্তান রেখে দুই বছর আগে ওমান পাড়ি দিয়েছিলেন নারায়ণ দাশ। মাটির ঘর ভেঙে দোতলা বাড়ি করবেন, ছেলে মেয়েদের করবেন উচ্চ শিক্ষিত। এক ধাক্কাতেই সব স্বপ্ন ধুলিষ্যাৎ তাঁর। বুকভরা শোক নিয়ে জরুরি ফিরতে হচ্ছে তাঁকে।
শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার পথে প্রাণ গেছে তাঁর পুরো পরিবারের। এখন তার আর কেউ রইল না।
মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) সকালে সাড়ে ১১টার দিকে হাটহাজারীর চারিয়া এলাকায় চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি মহাসড়কে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- চন্দনাইশের জোয়ারা ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর এলাকার ওমান প্রবাসী নারায়ণ দাশের স্ত্রী রিতা রানী দাশ (৪০), বড় মেয়ে শ্রাবন্তী দাশ (১৭), ছোট মেয়ে বর্ষা দাশ (১০), জমজ দুই ছেলে দ্বীপ দাশ (৩) ও দিগন্ত দাশ(৩), ভাসুরের ছেলে বিপ্লব দাশ (২৭) এবং নারায়ণ দাশের জেঠাত বোন চিনু দাশ (৪৫)। এছাড়া আহতরা হলেন- বিপ্লব দে ও বাপ্পা দাশ।
নারায়ণের পরিবারের ১৭ বছরের মেয়ে প্রতিবন্ধী শ্রাবন্তী দাশ এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী, ১২ বছরের মেয়ে বর্ষা দাশ স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। জমজ দুই ছেলে দ্বীপ দাশ ও দিগন্ত দাশ থাকতো মায়ের কোলজুড়ে। দুজনেরই বয়স ৪ বছর।
নারায়ণের বড় ভাই বাবলু দাশ বলেন, দুই বছর আগে সে অনেক অভাবে পড়ে স্ত্রী-সন্তান স্বজনদের কথা চিন্তা করে ওমানে যায়। সেখানে লন্ড্রির কাজ করে কোনোমতে সংসার চলতো। তবুও স্ত্রী-সন্তান পরিবারের জন্য তার স্বপ্নের কমতি ছিলনা…। কিছুই হলোনা। আগামীকাল দুপুর ১২টার ফ্লাইটে দেশে আসছে নারায়ণ। এরপরই নিজ হাতে পুরো পরিবারের দাহ করবে।
এরআগে, আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার চারিয়া এলাকায় বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান একই পরিবারের সাতজন। এছাড়াও আহত হয়েছেন আরও দুইজন।
নিহত রিতা দাশের বড় জা মল্লিকা দাশ বলেন, মিষ্টি ও কাপড়-চোপড় নিয়ে নিহত রিতা দাশের নানির মৃত্যু পরবর্তী ক্রিয়াকার্য অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য সবাই মিলে সিএনজি অটোরিকশা যোগে চন্দনাইশ উপজেলার জোয়ারা এলাকা থেকে প্রথমে কর্ণফুলী ব্রিজের দক্ষিণ পাশে মইজ্জারটেক যান, সেখানে থেকে আরেকটি সিএনজি অটোরিকশা যোগে অক্সিজেন মোড়ে পৌঁছান।
সেখান থেকে ফটিকছড়ি নানপুর পর্যন্ত অপর একটি সিএনজি অটোরিকশা যোগে যাওয়ার পথে হাটহাজারী উপজেলার চারিয়া বোর্ড স্কুল এলাকায় চট্টগ্রাম শহরমুখী বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
স্ত্রী সন্তান সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন ওমান প্রবাসী নারায়ণ দাশ, একইসাথে স্বজনদের সবাইকে হারিয়ে পাগলপারা হয়ে তিনি দেশে ফিরছেন বলে জানা গেছে। তিনি বাড়িতে পৌঁছালে নিহতদের লাশের সৎকার করা হবে।