- ভয়েস অফ এশিয়া - https://voiceofasiabd.net -

হঠাৎ অস্থির এলপি গ্যাসের বাজার

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের অপতৎপরতা শুরু হয়েছে। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে খুচরা পর্যায়ে ১২ কেজি গ্যাসের একটি সিলিন্ডারে দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে ৩ থেকে সাড়ে ৩শ’ টাকা পর্যন্ত।

কোনও কোনও এলাকায় এলপিজি পাওয়াও যাচ্ছে না। ডলার সংকটে বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানি করতে না পারার অজুহাত দেখিয়ে হঠাৎ করেই এলপিজির বাজার অস্থির করে তোলা হয়েছে। অথচ দেশের অন্তত ২৬টি বেসরকারি কোম্পানির কাছে প্রচুর পরিমাণে এলপিজি মজুদ রয়েছে বলেও সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে অন্তত ৫০ লাখ পরিবার রান্নার জ্বালানি হিসেবে এলপি গ্যাস ব্যবহার করে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) নিয়ন্ত্রণাধীন ইস্টার্ন রিফাইনারীতে বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে বেশ কিছু এলপি গ্যাস পাওয়া যায়। এর বাইরে বছরে অন্তত ১৪ লাখ টন এলপি গ্যাস বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। যার দাম ৩শ’ কোটি ডলারেরও বেশি।

আরও পড়ুন  ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস

দেশের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি কোম্পানিসহ অন্তত ২৬টি কোম্পানি এলপি গ্যাস আমদানি, বোতলজাত এবং বাজারজাতকরণের সাথে জড়িত। এদের মধ্যে বেশিরভাগ কোম্পানি মাসে মাত্র ২ থেকে ৩ হাজার টন এলপিজি আমদানি করে। বাজারের বড় অংশের দখল কয়েকটি কোম্পানির হাতে। যাদের ইচ্ছে অনিচ্ছার উপর বাজারের অনেক কিছু নির্ভর করে বলেও সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, ডলার ক্রাইসিসে এলসি করা যাচ্ছে না অজুহাতে বড় বড় কোম্পানিগুলো বাজারে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। যে সংকটকে পুঁজি করে রাতারাতি বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে এলপিজির দাম। ১২ কেজি ওজনের একটি এলপিজি সিলিন্ডার খুচরা পর্যায়ে ১২শ’ ৫০ টাকা দরে বিক্রি হতো। সেই গ্যাস গতকাল খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৪৫০ থেকে ১৫শ’ টাকা। কোথাও কোথাও এলপিজি পাওয়াই যাচ্ছে না। ডিলার পর্যায়ে দাম বাড়িয়ে দেয়ায় খুচরা পর্যায়ে দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন গতকাল একাধিক খুচরা বিক্রেতা।

আরও পড়ুন  পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ভারত

গতকাল একাধিক বিক্রেতা জানিয়েছেন, খুচরা পর্যায়ে সাড়ে ১২শ’ টাকা দরে যে গ্যাস তারা বিক্রি করতেন এখন তা সাড়ে ১৪শ’ থেকে ১৫শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তারা আগে ডিলার থেকে ১২শ’ টাকা দরে কিনে আনতেন। সেই গ্যাস ডিলার থেকে ১৪শ’ টাকা করে কিনতে হচ্ছে।

গতকাল নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ডিলার ভয়েস অফ এশিয়াকে বলেন, বাজার অস্থির। আমরা চাহিদা মোতাবেক গ্যাসই পাচ্ছি না। দর বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বাড়তি দরে কিনে আমরা তো আর কম দামে বিক্রি করতে পারছি না। কোম্পানি থেকে এলপি গ্যাস কিনে আনতে নানা ধরনের ঝক্কিও সামলাতে হচ্ছে বলেও ওই ডিলার মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ডলার ক্রাইসিসের জন্য এলসি করা সম্ভব না হওয়ায় দেশে এলপিজি সংকট প্রকট হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন  ড. ইউনূসের নেতৃত্বে সরকারে যারা থাকছেন

তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে যে, দেশে এলপি গ্যাসের কোন সংকট নেই। বেসরকারি কোম্পানিগুলোর কাছে প্রচুর গ্যাসের মুজদ রয়েছে। আমদানির হিসেবের উল্লেখ করে তিনি বলেন, একেবারে কম করে হলেও ৫ লাখ টনের বেশি এলপিজি হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানির ট্যাংকে রয়েছে। দেশে মাসে মাত্র ১ লাখ ২০ হাজার টন এলপিজি লাগে। যে পরিমাণ এলপিজি মজুদ রয়েছে তাতে আগামী চার মাসেরও বেশি সময়ের চাহিদা মেটানো সম্ভব।

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারির জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী, ১২ কেজি ওজনের একটি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য হওয়ার কথা সর্বোচ্চ ১২৩২ টাকা। চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে। এই দাম ঘোষণার আগ দিয়ে মজুদ করে কৃত্রিম একটি সংকট তৈরি করা হয়েছে।