চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ আংশিক) নিয়ে গঠিত আসনটি দীর্ঘদিন ধরে মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির নেতা ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলামের দখলে। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবার নিজেদের লোককে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চান। যদিও এই আসনে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন।
অন্যদিকে, বিএনপি জোট থেকেও প্রার্থী হওয়ার আশায় রয়েছেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। যদি জোট থেকে মনোনয়ন দেয়া হলে কপাল পুড়বে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের।
আওয়ামী লীগ-বিএনপির নেতাকর্মীরা এবারের সংসদ নির্বাচনে মহাজোট-জোট থেকে মুক্তি চান।
এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আ. লীগের সভাপতি এম এ সালাম ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ইউনুচ গণি চৌধুরী।
এছাড়া উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বাস মালিক ফেডারেশনের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী মঞ্জু, কেন্দ্রীয় যুবলীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক জাফর আহমেদও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী।
এ বিষয়ে ইউনুচ গণি চৌধুরী বলেন, ২০১৮ সালের সবশেষ নির্বাচনে আমাকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত মহাজোট থেকে প্রার্থী করা হয়। এবার দলের সর্বস্তর থেকে আওয়াজ উঠেছে মহাজোট নয়, দল থেকেই মনোনয়ন দেয়া হোক। সে হিসেবে আমি মনোনয়ন দাবিদার।
তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতি থেকেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছি। বড় পরিসরে মানুষের সেবা করার জন্যই সংসদ সদস্য হতে চাই। দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও আমার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
আমার নেত্রী যাকেই মনোনয়ন দেবে আমি তার পক্ষেই কাজ করবো। মনোনয়ন না পেলে নির্বাচনের আগে বিদেশ চলে যাবো, এমন রাজনীতি আমি করিনা। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে আবারও শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনতে হবে, নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করে ঘরে ফিরতে হবে। নৌকার স্বার্থে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে যোগ করেন ইউনুচ গণি চৌধূরী।
নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, হাটহাজারীর বর্তমান সাংসদ আবারও আ. লীগের সাথেই থাকবেন, নির্বাচনী ফর্মূলা যেটাই হোক। অনেকেই আবার নতুন কাউকে চান আওয়ামী লীগের বলয়ে। জাতীয় পার্টির তেমন কোন শক্ত অবস্থান হাটহাজারীতে নাই বললেই চলে। বিএনপিতে চলছে গ্রুপিং রাজনীতি তবে মাঠ দখলে রেখেছেন নতুন উদ্যমে তারেক জিয়ার বিশ্বস্থ সহচর মীর হেলাল।
বড় ধরনের কোন রাজনৈতিক বিপর্যয় না ঘটলে তেমন কোন পরিবর্তন আসবেনা আসন্ন নির্বাচনে এমনটাই মনে করছেন প্রবীণ কিছু রাজনীতিক। কাঁদা ছোড়াছুড়িকেও দুষছেন অনেকেই। বিভিন্ন সংস্থার জরিপে কার কি অবস্থান তা সময়েই বলে দিবে। হাটহাজারীর রাজনীতিতে খুব একটা ঐক্যের চিহ্ন চোখে পড়ছেনা তা অর্ধ ডজন প্রার্থী হওয়ার ব্যপারটা দেখলেই বোঝা যায়।
এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন- দলটির কেন্দ্রীয় নেতা এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের পুত্র ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল, বিজিএমইএর সাবেক নেতা এস এম ফজলুল হক, প্রয়াত বিএনপি নেতা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা।
এছাড়াও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. ফাওয়াজ হোসেন শুভ থাকবেন নির্বাচনের
এছাড়া ইসলামী ফ্রন্ট থেকে অ্যাডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতেয়ার, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন মনোনয়ন চাইবেন। সম্মিলিত জাতীয় জোটের প্রধান শরিক ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি), চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে ইঞ্জিনিয়ার মো. রফিক নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।














