হাটহাজারীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৩টি পরিবার একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছে।
শুক্রবার (১৭ মে) বিকালের দিকে হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে একইদিন বেলা ১১ টার দিকে উপজেলার গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের উত্তর ছাদেকনগর গ্রামস্থ শহর আলীর বাড়িতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়-প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার আনুমানিক বেলা এগারটার দিকে উল্লেখিত এলাকার শহর আলীর বাড়িতে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হলে আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ওই বাড়ির ১৩ পরিবারের বসতঘর ঘরে রক্ষিত স্বর্ণালংকার, টাকা পয়সা, মূল্যবান কাগজপত্র ও আসবাবপত্রসহ যাবতীয় মালামাল পুড়ে যায়। এতে তারা একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হলো- মো. জসিম উদ্দিন, মো. জিসান উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী, ওসমান আলী, আজগর আলী, মঞ্জুরুল আলম, করিম উদ্দিন, আবুল হোসেন, আবুল কাসেম, মো. আলী, মো.বেলাল উদ্দিন, মো. আলাউদ্দীন, জিয়াউল হক।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ওসমান আলীর নগদ ৫ লাখ, মো. জসিম উদ্দিনের নগদ ১ লাখ, মো. জিসানের নগদ ৫০ হাজার টাকাসহ ৭ লক্ষাধিক নগদ টাকা আগুনে পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এতে ৫০ লক্ষাধিক টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
ঘরে বিদ্যূৎ সংযোগ থাকায় এবং টিনের ছাউনি হওয়ায় কেউ আগুন নিভাতে এগিয়ে যেতে সাহস পায়নি। পরে খবর পেয়ে হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে অগ্নিদূর্গত পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে বলে জানা গেছে।
গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোহাম্মদ আলমগীর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অগ্নিকাণ্ডে নগদ প্রায় সাত লক্ষাধিক টাকাসহ ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ৫০ লক্ষাধিক টাকা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রান্নাঘরের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, অগ্নিদূর্গত পরিবারের প্রায় ৪৫ জন সদস্যের জন্য তিনি দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করেছেন।
গুমানমর্দ্দন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান খবর পেয়ে অগ্নি দূর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।















