ভবিষ্যতের পরিবহন ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল চীন। দেশটির বৈদ্যুতিক ড্রোন ও বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘অটোফ্লাইট’ বিশ্বের প্রথম ৫-টন ওজনের ইলেকট্রিক ভার্টিক্যাল টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং (ই-ভিটিওএল) বিমান উন্মোচন করেছে। ‘ভি৫০০০ ম্যাট্রিক্স’ নামক এই অত্যাধুনিক আকাশযানটি একসঙ্গে ১০ জন যাত্রী বহনে সক্ষম, যা এই প্রযুক্তির ইতিহাসে এক বিশাল মাইলফলক।
বৃহস্পতিবার চীনের জিয়াংসু প্রদেশের কুনশান শহরে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই উড়ন্ত যানটির প্রদর্শনী ফ্লাইট সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। গ্লোবাল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
অটোফ্লাইটের একজন প্রতিনিধি জানান, বর্তমানে বাজারে থাকা মূলধারার ই-ভিটিওএল মডেলগুলোর ওজন সাধারণত ১.৫ থেকে ৩ টনের মধ্যে হয় এবং সেগুলো সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৬ জন যাত্রী বহন করতে পারে। কিন্তু নতুন এই ‘ম্যাট্রিক্স’ বিমানটি প্রথম কোনো মডেল যা ৫ টন ওজনের ক্যাটাগরিতে পৌঁছেছে। এর ফলে এটি অনেক বেশি ওজন ও মালামাল নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে পারবে।
অত্যাধুনিক বৈশিষ্ট্য ও সক্ষমতা- প্রযুক্তিগত দিক থেকে ‘ভি৫০০০ ম্যাট্রিক্স’ অত্যন্ত শক্তিশালী। এর ডানার দৈর্ঘ্য ২০ মিটার এবং লম্বায় ১৭.১ মিটার। এর কেবিনটি ৫.২৫ মিটার দীর্ঘ এবং ১.৮ মিটার চওড়া, যা যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক ভ্রমণের নিশ্চয়তা দেয়। সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সংস্করণটি একবার চার্জে ২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। তবে এর একটি হাইব্রিড সংস্করণও রয়েছে, যা একনাগাড়ে ১,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে সক্ষম।
যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে বিপ্লব- উড়ন্ত যানটির যাত্রী মডেলে ১০ জন মানুষ বসতে পারলেও এর একটি কার্গো বা পণ্যবাহী সংস্করণও তৈরি করা হয়েছে। কার্গো মডেলটি কয়েক টন ওজনের মালামাল অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছে দিতে পারবে। যাতায়াতের সময় বাঁচাতে এবং যানজটমুক্ত শহর গড়তে চীনের এই আবিষ্কার বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি আকাশপথের পরিবহন ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। বিশেষ করে জরুরি উদ্ধার অভিযান, দ্রুত পর্যটন এবং ভারী পণ্য পরিবহনে এই ৫-টনি উড়ন্ত যানটি গেম-চেঞ্জার হিসেবে প্রমাণিত হবে।














