ঢাকা, -

আলোচিত সংবাদ

চট্টগ্রাম ও চাঁদপুরের শতাধিক গ্রামে আজ থেকে রোজা শুরু

ছবি- সংগৃহীত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ (শনিবার) থেকে রোজা রাখা শুরু করেছেন চট্টগ্রাম ও চাঁদপুরের শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে তারাবিহ আদায় ও সেহরি খাওয়ার মাধ্যমে সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, পটিয়া, কর্ণফুলী উপজেলার মির্জাখীল দরবার শরীফের ভক্ত-মুরিদরা রোজা পালন করবেন।

দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা।

মির্জারখীল দরবার সূত্রে জানা যায়, মির্জারখীল ছাড়াও উপজেলার সোনাকানিয়া, ছোটহাতিয়া, আছারতলি, সাইরতলি, গারাঙ্গিয়া, এওচিয়া, খাগরিয়া, ছদাহা, গাটিয়াডাঙ্গা এবং লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান, বড়হাতিয়া, পুটিবিলা, চরম্বা ও চুনতি, বাঁশখালী উপজেলার জালিয়াপাড়া, ছনুয়া, মক্ষিরচর, চাম্বল, শেখেরখীল, ডোংরা, তৈলারদ্বীপ ও কালিপুর পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও, বাহুলী, ভেল্লাপাড়াসহ ৫০ গ্রামের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ আজ শুক্রবার রাতে প্রথম রোজার সেহরি খেয়ে রোজা রাখবেন।

এছাড়া চট্টগ্রামের হাটহাজারী, সন্দ্বীপ, ফটিকছড়ি, বান্দরবানের লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, কক্সবাজার সদর, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়ার বেশ কয়েকটি গ্রামে মির্জাখীল দরবার শরিফের অনুসারী রয়েছেন তারাও শুক্রবার রাতে সেহরি খেয়ে রোজা রাখবেন।

আরও পড়ুন  মঠবাড়িয়ায় এক হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

মির্জাখীল দরবারের মির্জাখীল দরবার শরীফের মেঝ সাহেবজাদা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান সরফরাজ বলেন, প্রায় আড়াইশ বছর আগে সাতকানিয়া উপজেলার মির্জারখীল গ্রামে হযরত মাওলানা মোখলেছুর রহমান (রহ.) হানাফি মাজহাবের ফতোয়া অনুযায়ী পৃথিবীর যে কোনো দেশে চাঁদ দেখা গেলে রোজা, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহাসহ সব ধর্মীয় উৎসব পালন করার ফতোয়া দিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় অনুসারীরা একই নিয়মে সব ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন।

এদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের অর্ধশতাধিক গ্রামে শনিবার (১ মার্চ) থেকে রোজা শুরু হবে। গতকাল শুক্রবার রাতে তারাবির নামাজ আদায়ের মধ্যদিয়ে রোজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।

রোজা রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরিফের পীরজাদা ড. বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী।

জানা গেছে, প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ১৯২৮ সালে আগাম রোজা রাখাসহ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালনের নিয়ম চালু করেন সাদ্রা দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইসহাক (রা.)। তার অনুসারীরা প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা রাখা ও ঈদ উদযাপন করে থাকেন। সেই থেকে বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা আরব দেশসমূহের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখেন।

আরও পড়ুন  যৌথবাহিনীর অভিযানে সমন্বয়কসহ গ্রেপ্তার ১৪

স্থানীয়রা জানান, জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলীপুর, ভোলাচোঁ, ঝাকনি, সোনাচোঁ, প্রতাপপুর ও সুরঙ্গচাইল গ্রাম, ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুরঙ্গচাউল, কাইতাড়া, উভারামপুর, টোরামুন্সিরহাট, মতলব উত্তর উপজেলার পাঁচানী, বাহেরচর পাঁচানী, আইটাদি পাঁচানী, দেওয়ানকান্দিসহ অর্ধশতাধিক গ্রামের মুসল্লিরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখেন।

মতলব উত্তরের দেওয়ানকান্দি গ্রামের বোরহান উদ্দিন ডালিম বলেন, আমরা চট্টগ্রামের মির্জাখিল দরবার শরিফের অনুসারী। প্রতিবছর আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ উদযাপন করে আসছি। এবারও দেশটির সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখব।

হাজীগঞ্জের সাদ্রা গ্রামের আবু মুছা নামের এক যুবক বলেন, সাদ্রা দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা পীর মাওলানা ইসহাক (রা.) ১৯২৮ সাল থেকে বিশ্বের যেকোনো দেশে সর্বপ্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো পালন করেছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা প্রতিবছর ঈদ ও রোজা পালন করে আসছি। এ ছাড়াও শবে বরাত, শবে কদর এবং শবে মেরাজসহ ধর্মীয় অনুষ্ঠান এভাবেই পালন করি।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রামে সয়াবিন তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা

শরীফ হোসেন নামে স্থানীয় আরেকজন বলেন, ছোটবেলা এখন পর্যন্ত প্রথম চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে রোজ রাখি। আমরা বিশ্বের যেকোনো জায়গা চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করি।

দেশের আগাম ঈদের প্রবক্তা হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবারের পীর মাওলানা আরিফ চৌধুরী বলেন, আমরাই সর্বপ্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা রাখি এবং ঈদ উদযাপন করি। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলেই আমরা রোজা ও ঈদুল ফিতর পালন করছি।

সাদ্রা দরবার শরিফের পীরজাদা ড. বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী বলেন, আগাম রোজা ও দুই ঈদ পালনের প্রবর্তক মাওলানা ইসহাক (রহ.)। প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপনের নিয়ম চালু করেন। আমরা পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখার খবর পেয়েছি। আমরা নিজেরাও খোঁজখবর নিয়ে নিশ্চিত হয়েছি। তারাবির নামাজ আদায় করেছি। ভোররাতে সাহরি খেয়ে আগামীকাল থেকে রোজা রাখব।

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের আরও

সর্বশেষ