ঢাকা, -

আলোচিত সংবাদ

সিরিয়ায় একযোগে ৭০ স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা

ছবি- সংগৃহীত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

সিরিয়ার মরুভূমিতে আবারও গর্জে উঠল যুদ্ধবিমান। পালমিরায় প্রাণঘাতী হামলার জবাবে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে নজিরবিহীন বিমান অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্য সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে একযোগে অন্তত ৭০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া এই অভিযানের নাম ‘অপারেশন হক-আই স্ট্রাইক’। বাংলাদেশ সময় তখন রাত ২টা। অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশ নেয় জর্ডানের যুদ্ধবিমানও।

বিবিসি তথ্য অনুযায়ী, আইএসের ঘাঁটি, অস্ত্রাগার ও লজিস্টিক নেটওয়ার্ক ধ্বংসে ব্যবহার করা হয়েছে ফাইটার জেট, অ্যাটাক হেলিকপ্টার ও ভারী আর্টিলারি। একাধিক ধাপে ১০০টিরও বেশি নির্ভুল গোলাবর্ষণ করা হয়।

আরও পড়ুন  পাকিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৯ জনের প্রাণহানি

মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, দেইর আজ-জোর প্রদেশে এই হামলায় আইএসের অন্তত পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ড্রোন অপারেশন পরিচালনাকারী সংগঠনটির এক শীর্ষ নেতাও রয়েছে- যা আইএসের সামরিক সক্ষমতায় বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এক বার্তায় কড়া ভাষায় প্রতিশোধের ঘোষণা দেন। তিনি লেখেন, ‘যেমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আমাদের ওপর হামলাকারী খুনি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোরতম জবাব দিচ্ছি।’

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সিরিয়ার বর্তমান সরকার এই অভিযানে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই অভিযানের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এটি যুদ্ধের সূচনা নয়- এটি প্রতিশোধের বার্তা। বিশ্বের যেখানেই আমেরিকানদের লক্ষ্য করা হবে, যুক্তরাষ্ট্র সেখানেই পৌঁছাবে।’

আরও পড়ুন  কলকাতায় তিন দিনে অ্যাডিনো ভাইরাসে ১০ শিশুর মৃত্যু

এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয় ১৩ ডিসেম্বর, যখন পালমিরায় এক অতর্কিত হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও একজন বেসামরিক দোভাষী নিহত হন। আহত হন আরও তিন সেনা। বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর এটিই ছিল প্রথম ঘটনা, যেখানে মার্কিন বাহিনী সরাসরি প্রাণহানির শিকার হয়।

সেন্টকমের দাবি, হামলাকারী ছিল আইএসের সদস্য। পরে পৃথক অভিযানে তাকে হত্যা করা হয়। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও বদলে গেছে দ্রুত। ২০২৪ সালে আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলছেন। গত নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক হয়। আসাদ-পরবর্তী সিরিয়া এখন আইএস দমনে আন্তর্জাতিক জোটে সক্রিয়ভাবে যুক্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সহযোগিতার পথে হাঁটছে।

আরও পড়ুন  দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ৪৫ হাজার পুলিশ ও সাাঁজোয়া যান নামাল ফ্রান্স

সিরিয়ার আকাশে এই নতুন অভিযান স্পষ্ট করে দিচ্ছে- আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই এখন শুধু প্রতিরোধ নয়, বরং নির্দয় অনুসন্ধান ও ধ্বংসের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের আরও

সর্বশেষ