ঢাকা, -

আলোচিত সংবাদ

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে পুতিন নন, প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিই বাধা: ট্রাম্প

ছবি- সংগৃহীত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন নন বরং ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। রয়টার্সকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এমন দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ওভাল অফিস থেকে একান্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রায় চার বছর ধরে চলা ইউক্রেন আগ্রাসন শেষ করতে চান। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তুলনামূলকভাবে কম আগ্রহী।

তিনি বলেন, আমি মনে করি তিনি (পুতিন) শান্তিচুক্তি করতে প্রস্তুত, অন্যদিকে আমার মনে হয় ইউক্রেন চুক্তি করতে ততটা এগিয়ে আসতে চাচ্ছে না।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় স্থলযুদ্ধ এখনো কেন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়নি- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এক কথায় উত্তর দেন- ‘জেলেনস্কি’। অর্থাৎ ইউরোপে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার পেছনে ইউক্রেন প্রেসিডেন্টকেই একমাত্র দায়ী উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

আরও পড়ুন  ইরাকে বোমা ও বন্দুক হামলা, নিহত ১০

তার এই বক্তব্য ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্রদের অবস্থানের সঙ্গে স্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক। ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্যের মতো ইউরোপীয় মিত্ররা বারবার উল্লেখ করে আসছেন, ইউক্রেনে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে মস্কোর খুব একটা আগ্রহ নেই।

এদিকে ট্রাম্পের মন্তব্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের প্রতি নতুন করে ট্রাম্পের হতাশার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। যদিও তাদের দুজনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টালমাটাল অবস্থায় আছে। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে একাধিকবার বৈঠকে জেলেনস্কির সঙ্গে প্রকাশ্যে তর্কে জড়িয়েছেন।

আরও পড়ুন  করোনা মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান চসিক মেয়রের

ইউক্রেনের খনিজ সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের অংশিদারত্ব নিয়েও বেশ জলঘোলা হয়েছে। অবশেষে ট্রাম্পের সমর্থন পেতে দেশের সম্পদে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপ মেনে নিতে চুক্তি করেছেন জেলেনস্কি।

এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় নেতারা অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশের নেতাদের তুলনায়, ভ্লাদিমির পুতিনের আশ্বাস সহজে মেনে নিতে বেশি আগ্রহী ছিলেন। এমনকি তিনি শান্তিচুক্তির ক্ষেত্রেও রাশিয়ার শর্তগুলোতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। তারই অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা ইউক্রেন-রাশিয়াকে যে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চল রাশিয়ার কাছে ছেড়ে দেওয়ার জন্যও চাপ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন  মধ্যরাতে এনসিপির তোরণে আগুন দিলো দুর্বৃত্তরা

সাম্প্রতি ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সক্রিয় আলোচনায় অংশ নিয়েছেন ইউক্রেনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। ট্রাম্পের পক্ষে এসব আলোচনা পরিচালনা করছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার। তারা নতুন কোনো শান্তি প্রস্তাব নিয়ে মস্কো সফর করবেন কিনা সে বিষয়ে ট্রাম্প জানান, এমন কোনো সফরের বিষয়ে তিনি অবগত নন।

আগামী সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, যদি তিনি সেখানে থাকেন, হয়তো আমরা দেখা করব, তবে এখনও কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা এখনো হয়নি।

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের আরও

সর্বশেষ