ঢাকা, -

আলোচিত সংবাদ

আজকেই গেজেট, ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন মন্ত্রিসভা; শেষ হবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যায়

ছবি- সংগৃহীত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

ভোট শেষ হয়েছে। গেজেট প্রকাশের অপেক্ষা চলছে। এরপর শপথ, সংসদীয় প্রক্রিয়া, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং মন্ত্রিসভা গঠন- সব মিলিয়ে বাংলাদেশ এখন নতুন সরকারের দ্বারপ্রান্তে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন মন্ত্রিসভা গঠন হতে পারে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ৩০০ আসনের সংসদে এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৫১ আসন। বিএনপি দুই শতাধিক আসন পাওয়ায় এককভাবেই সরকার গঠন করতে যাচ্ছে দলটি। নির্বাচনে দল হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকবে বলেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা পর্যন্ত ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৮৯টির ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিএনপি ২১২টি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৯টি, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি এবং অন্যান্যরা ১টি আসনে জয়ী হয়েছেন।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে। এরপর পরবর্তী দুই দিনের মধ্যে মন্ত্রিসভার শপথের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠিত হবে। নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের শপথের পর পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে দলনেতা নির্বাচিত হবেন। এরপর তিনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিষয়টি তুলে ধরে সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের অনুরোধ জানাবেন। রাষ্ট্রপতির সম্মতির পরই শুরু হবে নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া।

আরও পড়ুন  পদত্যাগ করলেন হাইতির প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল হেনরি

নির্বাচনে সর্বোচ্চ আসনপ্রাপ্ত দল হিসেবে বিএনপির সংসদ নেতা হবেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন- এটি প্রায় নিশ্চিত বলেই রাজনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে।

সংসদ সদস্যদের শপথ-

সংবিধানের ১৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদায়ী স্পিকার নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান। ১৪৮ (২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, স্পিকারের মনোনীত কোনো ব্যক্তির কাছেও সংসদ সদস্যরা শপথ নিতে পারেন। তবে অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর পদত্যাগ এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুর কারাবন্দি অবস্থার কারণে এই দুটি পদ কার্যত শূন্য হয়ে রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের মাধ্যমে নতুন এমপিদের শপথ গ্রহণের কোনো বাস্তব সম্ভাবনা নেই। ফলে শপথ পড়ানোর বিষয়টি নিয়ে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি হিসেবে প্রধান বিচারপতির কাছেও নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিতে পারেন। পাশাপাশি সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, নির্বাচিত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছেও শপথ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন  ইতিহাস ঐতিহ্যে শিকারপূর এবং ড. ইউনুস

ওই দিনই নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদ কার্যত শূন্য থাকায় সংবিধানের বিশেষ বিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পাঠ করাতে পারেন। তবে নতুন সংসদ সদস্যরা কার কাছে শপথ নেবেন, সেটি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয় হিসেবেই জানানো হয়েছে।

এরপর গঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভা-

সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মন্ত্রিসভায় একজন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন এবং প্রধানমন্ত্রী যেভাবে নির্ধারণ করবেন, সেভাবেই অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সব সদস্যকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন। সংবিধান অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার কমপক্ষে ৯০ শতাংশ সদস্য সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে নিয়োগ পেতে হবে এবং সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে টেকনোক্র্যাট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।

রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর শপথ পড়াবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ গ্রহণের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়েই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ শেষ হবে এবং উপদেষ্টা পরিষদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রীর নামে একটি বাড়ি আছে, ১৪টি নয়: ওয়াসা এমডি

নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি-

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও বঙ্গভবন নতুন মন্ত্রিসভার শপথ ও সরকার গঠন উপলক্ষে আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। শপথ অনুষ্ঠান হবে বঙ্গভবনে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ।

নতুন মন্ত্রিসভা কত সদস্যবিশিষ্ট হবে, তা নির্ধারণ করবে বিজয়ী দল বিএনপি। তবে বিগত সরকারগুলোর কাঠামো অনুসরণ করে একটি বড় পরিসরের মন্ত্রিসভা ধরেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, নতুন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জন্য গাড়ি প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ ৫০ জন সদস্যের মন্ত্রিসভা ধরে পরিবহন ব্যবস্থাপনা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে গেজেট প্রকাশ, শপথ, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এখন নতুন সরকারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যায়, শুরু হবে নতুন সরকারের যাত্রা।

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের আরও

সর্বশেষ