ঢাকা, -

আলোচিত সংবাদ

মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে হতাশ ট্রাম্প

ছবি- সংগৃহীত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একটি গোপন মূল্যায়ন প্রতিবেদনকে ঘিরে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক অভিযান চালিয়েও ইরানের বর্তমান ইসলামিক শাসনব্যবস্থাকে সহজে উৎখাত করা প্রায় অসম্ভব।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে কাজ করা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিল (এনআইসি) সম্প্রতি এক মূল্যায়নমূলক প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

এতে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষমতার কাঠামো এতটাই সুসংগঠিত যে, কেবল বিমান হামলা বা সীমিত সামরিক অভিযানে তা ভেঙে ফেলা কঠিন।

এই মূল্যায়নকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ তিনি বারবার ইরানের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার কথা প্রকাশ্যে বলেছেন।

আরও পড়ুন  ভারতে অবতরণের আগমুহূর্তে বিমান বিধ্বস্ত

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রভাবশালী অংশ ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্ব এমন একটি শক্তিশালী উত্তরাধিকার ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরি করেছে, যা নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও পুরো ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যদি শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়, তবুও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আর্থিক সক্ষমতার কারণে শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা কম।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক রুবেন জনসনের বরাতে এতে বলা হয়েছে, ইরানে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির অভাবও যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলছে। ফলে সরকার পরিবর্তনের কৌশল বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রামে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ৩ মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ

এদিকে ইরানের রাজপরিবারের নির্বাসিত সদস্য রেজা শাহ পাহলভীর প্রতি কিছু মহলে সমর্থন থাকলেও ট্রাম্প তাকে নিয়ে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ইরানের ভেতরেই অবস্থান করছেন, এমন কিছু ব্যক্তিকে তিনি সম্ভাব্য বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে বিবেচনা করছেন। এমনকি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র নজর রাখছে বলেও দাবি করেন তিনি।

গোয়েন্দা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অনুপস্থিতির ক্ষেত্রেও শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য সামরিক ও ধর্মীয় নেতৃত্ব আগে থেকেই একটি ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ কাঠামো তৈরি করে রেখেছে।

আরও পড়ুন  ভাগ্য খুলেছে শিক্ষা অধিদপ্তরের ৮২ কর্মচারীর

ফলে ইরানে নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও পুরো ব্যবস্থার পতন ঘটবে- এমন সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছে মার্কিন গোয়েন্দারা।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের কিছু ক্ষতি হলেও আইআরজিসির মূল সামরিক সক্ষমতা এখনো অক্ষুণ্ণ রয়েছে। এতে ওয়াশিংটনের সামনে একটি কৌশলগত দ্বিধা তৈরি হয়েছে।

কারণ, যে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসন পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে অভিযান শুরু হয়েছিল, বর্তমান গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের আরও

সর্বশেষ