ঢাকা, -

আলোচিত সংবাদ

বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংসদে তোপের মুখে বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবিঃ সংগৃহীত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় সংসদে তোপের মুখে পড়েন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এ সময় তার পদত্যাগ দাবি করেন একজন সংসদ সদস্য। জবাবে, বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে জটিলতার কথা তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

গতকাল সোমবার (২৬ জুন) সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত বরাদ্দের ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে বিরোধী সংসদ সদস্যরা বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কমানোরও প্রস্তাব করেন।

তবে কণ্ঠভোটে তাদের প্রস্তাব নাকচ হয় এবং মন্ত্রীর প্রস্তাবিত অর্থ মঞ্জুর হয়। বিরোধী ১০ সংসদ সদস্যের সমালোচনার পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় টিপু মুনশি বলেন, পণ্যমূল্য বাড়ছে ‘বৈশ্বিক পরিস্থিতির’ প্রভাবে। আর দেশে যে সিন্ডিকেটের কথা বলা হয়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়া সম্ভব। তবে তাতে জটিলতাও আছে। এটা ঠিক যে, বড় বড় গ্রুপগুলো একসঙ্গে অনেক বেশি ব্যবসা করে। আমাদের লক্ষ্য রাখা দরকার- আমরা জেলে ভরলাম, জরিমানা করলাম।

সেটা হয়তো করা সম্ভব। কিন্তু তাতে হঠাৎ করে ক্রাইসিস তৈরি হবে, সেটা সইতে তো আমাদের কষ্ট হবে। এজন্য আমরা আলোচনার মাধ্যমে নিয়মের মধ্যে থেকে চেষ্টা করি। ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় গণফোরামের মোকাব্বির খান বলেন, বর্তমান সরকারের সবচেয়ে ব্যর্থ মন্ত্রণালয় হচ্ছে- বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশে 'মুক্ত গণতন্ত্র' বাস্তবায়নে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে: যুক্তরাষ্ট্র

বাজারে গেলে মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এতোটাই ব্যর্থ এটিকে মানুষ সিন্ডিকটবান্ধব মন্ত্রণালয় বলে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট জড়িত। অনেকে সংসদে বলেছেন, বাণিজ্যমন্ত্রী এর সঙ্গে জড়িত।

কিন্তু আমি এভাবে বলতে চাই না। এতোকিছুর পরও কেন আপনি পদত্যাগ করেন না। আর জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য রওশন আরা মান্নান বলেন, বাজারে গেলে মানুষের মাথা গরম হয়ে যায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঠিকমতো বাজার নজরদারি করছে না। আরেক সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেল কী কাজ করে? এত বড় একটি মন্ত্রণালয়। বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। এটা চাইলে অবশ্যই সম্ভব।

জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, গত কয়েক মাসে সারা বিশ্বে পণ্যের দাম কমলেও আমাদের দেশে তার প্রভাব পড়ছে না। সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘বাজারে গিয়ে মানুষ কাঁদছে, তার একমাত্র কারণ সিন্ডিকেট।’ মানুষও এটি বোঝে। শুধু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ওপর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির দায় চাপালে হবে না।

আরও পড়ুন  সরকার বদল হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক চায় জাপান: আমির খসরু

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, বার বার একটা কথা উঠে আসছে যে, আমি ব্যবসায়ী, ব্যবসায়ীরা আমার জন্য সুবিধা পাচ্ছেন। যারা এই কথাগুলো বলেছেন, তাদের উদ্দেশ্যে একটা কথা বলি। তাদের রাজনীতির কত বছরের অভিজ্ঞতা আমি জানি না, আমি কিন্তু ৫৬ বছর ধরে রাজনীতি করি। আমি কিন্তু ব্যবসা করি আজকে ৪০/৪২ বছর। তিনি বলেন, একজন তো বললেন আমাকে পদত্যাগ করতে।

খুব ভালো কথা বলেছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলবো আমাকে ছেড়ে তাকে দায়িত্বটা দিতে পারেন। দাম বেড়েছে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী কিন্তু বলেছেন মানুষ কষ্টে আছে। কারণটা কী? আমরা কি শুধু আমাদের জন্যই আমরা এই অবস্থায় এসেছি। না একটা বৈশ্বিক পরিস্থিতি আমাদের ওপর প্রভাব ফেলেছে। সেটাও কিন্তু আমাদের হিসাবের মধ্যে আনতে হবে।

টিপু মুনশি বলেন, অনেকগুলো কথা বলা হয়েছে, যেমন জ্বালানির কথা আসছে, জ্বালানিটা আমি দেখি না। ডিম সেটা তো আমি খবর জানি না, ডিমের দাম বাড়া বা কমার বিষয়টি, যে মন্ত্রণালয় আছে, তারা ঠিক করে দেয়। দাম বেড়েছে কোনো সন্দেহ নেই। পিয়াজের কথা বলা হয়েছে। আমরা আলোচনা করে ঠিক করেছিলাম যাতে কৃষকরা একটু দাম পান। পিয়াজে আমাদের ৬ থেকে ৭ লাখ টন ঘাটতি আছে। মন্ত্রী বলেন, যদি কৃষকরা একটু ভালো মূল্য পান, তাহলে তারা উৎপাদনের দিকে মনোযোগী হবেন। এ কথা ঠিক যে, ৮০ টাকা বা ৯০ টাকা হওয়া যৌক্তিক নয়।

আরও পড়ুন  ঢাকা আসছেন দুই মার্কিন কংগ্রেসম্যান

আমরা চেষ্টা করেছি, আমদানির ব্যবস্থা করেছি, আমরা চাইছিলাম না পিয়াজটা আমদানি করতে। দেশেরটাই ব্যবহার করতে চেয়েছিলাম, যাতে মানুষ ন্যায্যমূল্য পায়। কিন্তু তারপরও প্রধানমন্ত্রী বলেছেন দাম বেড়ে গেছে, আমরা আমদানির ব্যবস্থা নিয়েছি, দাম কমতে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, আজ এত দুরবস্থার মধ্যেও কিন্তু আমরা ৫৮ বিলিয়ন রপ্তানি করেছি। গতবারের তুলনায় ৭ থেকে ৮ ভাগ বেশি হয়েছে। এতো সংকটের মধ্যেও আমাদের রপ্তানির মান বেড়ে চলেছে, সেটা কিন্তু বলা দরকার। পিয়াজের দাম ১০-১৫ দিনের মধ্যে ৫০ টাকার মধ্যে চলে আসবে। আমরা মনে করি দেশি পিয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে থাকলে সব পক্ষের উপকার হয়।

ট্যাগঃ

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের আরও

সর্বশেষ