দেশের জ্বালানি খাতে চলমান অস্থিরতা ও বিশ্ববাজারের টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে।
রবিবার (৮ মার্চ) এক জরুরি অফিস আদেশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একযোগে বদলি ও নতুন দায়িত্ব প্রদান করা হয়।
বিপিসির জারি করা এই আদেশে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট কর্মকর্তার দফতর পরিবর্তন করা হয়েছে। এলপি গ্যাস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউসুফ হোসেন ভুঁইয়াকে এখন বিপিসির বণ্টন ও বিপণন বিভাগের ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের দায়িত্ব সামলানো মণিলাল দাশকে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগে পাঠানো হয়েছে। অর্থ বিভাগ থেকে সরিয়ে মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদকে দেওয়া হয়েছে বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের দায়িত্ব।
বণ্টন ও বিপণন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইনকে সরিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যানের দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া অর্থ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে (চলতি) স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে উপমহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর কবিরকে। প্রশাসনিক এই রদবদলে সচিব দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে শাহরিয়ার মোহাম্মদ রাশেদকে।
বিপিসির এই আদেশে শুধু শীর্ষ পর্যায় নয়, ব্যবস্থাপক ও কনিষ্ঠ কর্মকর্তাদেরও বদলি করা হয়েছে। মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েল থেকেও কর্মকর্তাদের বিপিসির মূল কাঠামোতে নিয়ে আসা হয়েছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, বদরুল ইসলাম ফকির (বণ্টন ও বিপণন থেকে নিরীক্ষা বিভাগে), আল-আমীন (নিরীক্ষা থেকে হিসাব/ফান্ড বিভাগে) ও আবু নোমান মুহাম্মদ মঈন উদ্দীন শিবলী (যমুনা অয়েল থেকে বিপিসির আইন কর্মকর্তা হিসেবে বদলি)।
বিপিসি কর্তৃপক্ষ তাদের আদেশে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বদলি ও পদায়নকৃত এই কর্মকর্তাদের আগামী সোমবারের (৯ মার্চ) মধ্যেই নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব বুঝে না নিলে সংশ্লিষ্টদের ‘তাত্ক্ষণিক অবমুক্ত’ বা স্ট্যান্ড রিলিজ করা হবে বলে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম যখন আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে দেশের প্রধান জ্বালানি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের এই প্রশাসনিক রদবদলকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।














