ইসরায়েল ভূখণ্ডে একের পর এক রকেট হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের কাফর শুবা মালভূমির দুটি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
শুক্রবার (১২ এপ্রিল) দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ৫০টিরও বেশি রকেট হামলা করেছে বলে জানায় ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।

এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তাদের যোদ্ধারা কাফর শুবার উচ্চভূমিতে অবস্থিত দখলদার সেনাদের সামাকে সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিখুঁতভাবে কাঙ্খিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
অন্য একটি বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, কাফর শুবা মালভূমির রামসা সামরিক ঘাঁটিতে তাদের যোদ্ধারা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে এবং এ ক্ষেপণাস্ত্র সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সঠিকভাবে আঘাত হানে। দামেস্কের কন্সুলেট ভবনে ইসরাইলি হামলার কারণে যখন ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে প্রচণ্ড সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে তখন হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এসব ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হলো।
লেবানন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দখলদার সেনারা দক্ষিণ লেবাননের আল-খাইয়াম শহরে বোমাবর্ষণ করেছে। এছাড়া, দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় ইসরাইলি জঙ্গিবিমান থেকে বোমা হামলা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলে ইরানের হামলা একটি ‘বাস্তব ও গ্রহণযোগ্য’ হুমকি হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
শুক্রবার সিবিএস নিউজকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, শিগগিরই ইসরায়েলে বড় ধরনের হামলা হতে পারে। ইসরায়েল বলেছে, আত্মরক্ষা ও আক্রমণ উভয় দিক দিয়েই প্রস্তুত রয়েছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কারবি শুক্রবার বলেন, ‘কোন আকারে, কোন মাত্রায় এবং কোন সুযোগ নিয়ে হামলা হতে পারে, তা আমি বলতে পারছি না।’ তবে ইরানের হামলার হুমকি ‘কার্যকর’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ‘খুব নিবিড়ভাবে বিষয়টি দেখছে।’
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানায়, হামলায় রাইসি প্রশাসন ১০০টি ড্রোনে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করবে। তা ঠেকানো ইসরায়েলের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে যাবে বলেও জানান মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তারা। তবে শেষ মুহূর্তে ইরান হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারে বলেও ধারণা তাদের।
গত ১ এপ্রিল সিরিয়ার দামেস্কে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেটে হামলা চালিয়ে কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা করে ইসরায়েল। এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে বদ্ধপরিকর ইরানের নেতারা। তবে ইরান যেন ইসরায়েলে হামলা না করে এ জন্য বারবার সতর্ক করছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রসঙ্গত, ইরানের মদদে মধ্যপ্রাচ্যে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতি এবং গাজার হামাস নিজেদের তৎপরতা চালায়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান এই তিন গোষ্ঠীর মাধ্যমে নিজেদের প্রয়োজনীয় প্রক্সি যুদ্ধ চালিয়ে আসছে।














