ঢাকা, -

আলোচিত সংবাদ

চট্টগ্রামে পুলিশ ছাড়া অন্য কোন বাহিনীর অস্তিত্ব বরদাস্ত করা হবে না: সিএমপি কমিশনার

ছবি- সংগৃহীত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

চট্টগ্রাম মহানগরীতে পুলিশ ছাড়া অন্য কোন বাহিনী বা সন্ত্রাসী গ্রুপের অস্তিত্ব বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার ও অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ বলেছেন, সাজ্জাদ বাহিনী, লাল্টু বাহিনী, পল্টু বাহিনী- এই সমস্ত বাহিনী নির্মূল করতে হবে। নির্মূল মানে নির্মূল। তিনি বলেন, নগরীতে তথাকথিত বিভিন্ন ‘বাহিনী’ নির্মূলে প্রয়োজনে চরম পদক্ষেপ নিতেও পুলিশ পিছপা হবে না।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের কর্ণফুলী হলে প্রেস ক্লাব আয়োজিত সিএমপি কমিশনারের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিএমপি কমিশনার জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে নগরীতে সাঁড়াশি অভিযান চলমান রয়েছে এবং এই অভিযান তিন থেকে চার মাস আগেই শুরু করা হয়েছে। নির্বাচন সংক্রান্ত সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো বর্তমানে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এসব ঝুঁকির প্রকাশ ঘটছে। এসব সহিংস পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে আসন্ন নির্বাচন ব্যাহত করা এবং দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়া। এই অপচেষ্টা কঠোর হাতে মোকাবিলা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন  ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের অঘোষিত বৈঠক অনুষ্ঠিত

তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্র মূলত নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ ও সংসদ- এই তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। পরবর্তীতে গণমাধ্যমকেও রাষ্ট্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাষ্ট্রের এসব অঙ্গ যদি ভারসাম্যহীনভাবে একই রাজনৈতিক অ্যালাইনমেন্টে চলে যায়, তাহলে রাষ্ট্রব্যবস্থায় ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসে। বিগত ১৭ বছরে প্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ ও গণমাধ্যমের একমুখী রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে রাষ্ট্রব্যবস্থায় ফ্যাসিবাদী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে গেছে প্রথম হজ্ব ফ্লাইট

লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারের অগ্রগতি সম্পর্কে সিএমপি কমিশনার জানান, এখন পর্যন্ত লুণ্ঠিত অস্ত্রের প্রায় ৮০ শতাংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট ২০ শতাংশ অস্ত্র পাহাড়ি অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর হাতে চলে গেছে বলে তথ্য রয়েছে। তবে নির্বাচনের আগেই এসব অস্ত্র উদ্ধারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মতবিনিময় সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন একুশে পদকপ্রাপ্ত ও দৈনিক আজাদী পত্রিকার সম্পাদক এম এ মালেক। তিনি পুলিশ ও সাধারণ জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ভীতির পরিবেশ দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, জনগণ তথ্য দিলে পুলিশ দ্রুত অপরাধ দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন, ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মিয়া মো. আরিফ। চ্যানেল ওয়ানের ব্যুরো প্রধান মো. শাহনেওয়াজ রিটনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ডেইলি পিপলস ভিউ সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. হুমায়ুন কবির, প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুস্তফা নঈম, কার্যকরী সদস্য ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান এবং রফিকুল ইসলাম সেলিম।

আরও পড়ুন  ভোট দিলেন তারেক রহমান

এছাড়া সভায় প্রেস ক্লাবের অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাত, কার্যকরী সদস্য আরিচ আহমেদ শাহ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রূপম চক্রবর্তী, ক্রীড়া সম্পাদক রুবেল খান, গ্রন্থাগার সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক হাসান মুকুল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আবদুল্লাহসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিভিন্ন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের আরও

সর্বশেষ