ঢাকা, -

আলোচিত সংবাদ

টেকনাফ সীমান্তে ‘গুলিবিদ্ধ হুজাইফা’র অবস্থা সংকটাপন্ন

ছবি- সংগৃহীত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

মিয়ানমারের সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যদের ছোড়া গুলিতে আহত হয়েছে টেকনাফের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হুজাইফা আফনান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। অপারেশন করেও তার মাথার ভেতরে থাকা গুলি বের করা সম্ভব হয়নি।

হুজাইফা গুলিবিদ্ধ হওয়ার এক দিন পর সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে একই এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে হানিফ নামে এক যুবকের পা বিছিন্ন হয়ে যায়।

ভুক্তভোগীদের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন আরাকান আর্মির (এএ) গুলি ও মাইনে গুরুতর আহত হয়েছেন হুজাইফা ও হানিফ।

চট্টগ্রাম মেডিকেলের আইসিইউর সামনে বিষন্ন মনে দাঁড়িয়েছিলেন গুলিবিদ্ধ শিশু হোজাইফা আফনানের চাচা শওকত আলী।

হুজাইফার শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলে শওকত জানান, তার (হুজাইফা আফনান) অবস্থা ভালো না। মাথায় এখনো গুলি রয়ে গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাথার ভেতরে স্পর্শকাতর জায়গায় আছে গুলিটি। এখনো বের করার মতো পরিস্থিতি হয়নি। গতকাল (রবিবার) রাতে মাথায় অপারেশন হয়েছে। তার মাথার খুলি আলাদা করে ফ্রিজে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন  সাতকানিয়ার এমপিকে ঢেমশা ইউপি চেয়ারম্যানের চ্যালেঞ্জ

সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি এসব তথ্য জানান।

শওকত আলী স্থানীয় একটি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, রবিবার সকালে আমাদের বাড়িতে পিঠা বানানো হচ্ছিল। সাড়ে ৮টার দিকে নাস্তা করে হুজাইফাকে পানি আনতে বলি৷ পরে আমি ৯টার দিকে মাদ্রাসায় চলে যাই। আমাকে ফোন করে জানানো হয়, হুজাইফা গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

তিনি বলেন, এরপর বাসায় গিয়ে তাকে নিয়ে কক্সবাজার হাসপাতালে যাই। সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে রেফার করা হয়। বিকেল ৪টার দিকে আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়। এরপর তার অবস্থার উন্নতি হয়নি। রাতে অপারেশন করা হয়। তার মাথার খুলি আলাদা করে ব্রেইনে জমাট বাঁধা রক্ত অপসারণ করা হয়েছে এবং খুলিটি ফ্রিজে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গুলি করেছে বলে দাবি করে শওকত বলেন, টেকনাফের হোয়াইক্যাং তেচ্ছাব্রিজ এলাকায় সিমান্ত থেকে তিন কিলোমিটার দূরে। ওই জায়গায় গুলিবিদ্ধ হয় হুজাইফা। সীমান্তের ওপার থেকে গুলি করা হলে লোকালয়ে আসার কথা না। মূলত দেশের অভ্যন্তরে হউসের দ্বীপ এলাকা থেকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গুলি করেছে। তারা ওই দ্বীপ ছেড়ে যাওয়ার সময় স্থলমাইন পুঁতে দিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, ওই মাইন বিস্ফোরণে আজকে (সোমবার) সকালে আরেকজনের পা বিছিন্ন হয়।

আরও পড়ুন  বাগেরহাট পাসপোর্ট অফিস থেকে রোহিঙ্গা কিশোরী আটক

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ বলেন, ভোর ৪টা পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তবে গুলিটি বের করা সম্ভব হয়নি। সেটি মস্তিষ্কে, বের করায় ঝুঁকি আছে। তবে মস্তিষ্কের চাপ কমানো হয়েছে।

সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা বিদ্রোহীগোষ্ঠীর হামলা ঠেকাতে নাফ নদীর মধ্যভাগে জেগে ওঠা কয়েকটি দ্বীপের চারপাশ এবং সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডে নিষিদ্ধ স্থলমাইন পুঁতে রেখেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। এর আগেও স্থলমাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি কয়েকজন জেলে আহত হয়েছেন। দ্বীপগুলোতে মূলত মাছ চাষ হয়, স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে মাছ চাষ করেন, মানুষের কোনো বসতি নেই।

আরও পড়ুন  শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা

জানতে চাইলে হোয়াইক্যাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল বলেন, মিয়ানমারের ভেতরে আরকান আর্মির সঙ্গে প্রতিপক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। সেখান থেকে একটি পক্ষে নাফ নদী পার হয়ে দেশের অভ্যন্তরে চলে আসায় আরকান আর্মিও হউসের দ্বীপে চলে আসে। সেখান থেকেও গোলাগুলি হয়। পাশাপাশি জায়গায় আজকে মাইন বিস্ফোরণে হানিফ নামের একজনের পা বিছিন্ন হয়ে গেছে। তিনিও একই এলাকার বাসিন্দা।

সোমবার রাত ৯টার দিকে মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হানিফকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। হানিফের ভাই ইমাম বলেন, আমার ভাইকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।

এর আগে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হোয়াইক্যাংয়ে মাইন বিস্ফোরণে আহত হন হানিফ।

হোয়াইক্যাং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, আরকান আর্মি সীমান্ত এলাকায় মাইন পুঁতেছে। এ ঘটনা নতুন নয়, এর আগেও একইভাবে অনেকে আহত হয়েছে। আমরা সীমান্তের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানাচ্ছি।

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের আরও

সর্বশেষ