দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ। বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে মৃত কমপক্ষে ৭। যদিও হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
সোমবার (৩১ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ বিস্ফোরণ ঘটে বলে খবর। পৌনে এগারোটা পর্যন্ত মহিলা শিশু-সহ ৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।
সূত্রের খবর, পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাট থানার দক্ষিণ রায়পুর তিন নম্বর ভেরি এলাকায় বাজির গোডাউনে আগুন লাগে। বিধ্বংসী আগুন ছড়িয়ে পড়ে সেখান থেকেই। বিস্ফোরণের তীব্রতা অনেক বেশি ছিল। ভেঙে পড়ে এলাকার বাড়িও। মজুত বাজি থেকে মুহুর্মুহু বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে। এখনও পর্যন্ত ৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাকি ৩ জনের দেহ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে খবর।
কারখানা বাজি তৈরি করছিল চন্দ্রকান্ত বণিক নামে এক ব্যক্তি। সেই গোডাউনেই ঘটে বিস্ফোরণ। পাথরপ্রতিমার তৃণমূল বিধায়ক সমীর কুমার জানা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন বলে খবর। ঘটনাস্থলে রওনা পুলিশ সুপারেরও। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে দমকলের একটি ইঞ্জিনও। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে আগুন নেভানোর কাজ।
ঘটনায় হুলস্থূল পড়ে যায় গোটা এলাকায়। দমকলের কর্মীদের দাবি, এখনও প্রচুর বাজি মজুত রয়েছে। তাই আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। শুধু তাই নয়, অনেক পকেট ফায়ারও রয়েছে। সেগুলি নেভানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন দমকল কর্মীরা। যদিও দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে আগুন। কার্যত জতুগৃহে পরিণত হয় বাড়িটি।
ঘটনায় বেআইনি বাজি কারখানা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল আরও একবার। বিস্ফোরণের ভয়াবহতা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে। প্রচুর শব্দবাজি মজুত ছিল বলে সূত্রের খবর। কীকরে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে মজুত ছিল এত শব্দবাজি? উঠছে প্রশ্ন। পর পর বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা, এমনটাই দাবি স্থানীয়দের। বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন নয়। খাদিকুল, ভূপতিনগর, কল্যাণীর ঘটনার পরেও কেন প্রশাসনের সম্বিত ফিরল না, সেই প্রশ্ন তুলছে ওয়াকিবহাল মহল।














