ঢাকা, -

আলোচিত সংবাদ

যোগ্যদের মনোনয়ন দেওয়া হবে, চেহারা দেখে নয়: প্রধানমন্ত্রী

ছবিঃ সংগৃহীত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

জরিপের ভিত্তিতে যোগ্যদের মনোনয়ন দেওয়া হবে উল্লেখ্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এখানে যারা আছেন, সবাই মনোনয়ন নাও পেতে পারেন। মনোনয়ন পান না পান, নৌকার বিরোধিতা করা যাবে না। যারা নৌকার বিরোধিতা করবেন, তাদের রাজনীতি চিরতরে শেষ বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

তিনি বলেন, আমি কারও চেহারা দেখে মনোনয়ন দেব না। যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তার জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।

রবিবার (২২ অক্টোবর) আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের এক বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। জাতীয় সংসদের সরকারি দলের জন্য বরাদ্দ কক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক একটি মহল বাংলাদেশে অনির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় বসাতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় আসবে। আর অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে তাদের ইচ্ছেমতো বাংলাদেশ পরিচালিত করা যাবে। এ জন্যই নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে।

আরও পড়ুন  অস্ট্রেলিয়ায় রমজান শুরু শনিবার

বিএনপি শেষ মুহূর্তে নির্বাচনে আসতে পারে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিএনপি ভোটে না এলে মনোনয়ন–বাণিজ্য করবে কীভাবে? তারা মনোনয়ন–বাণিজ্য করার জন্য ভোটে আসতে পারে। পরে নির্বাচন বিতর্কিত করতে নানা অজুহাতে ভোট বর্জন করতে পারে।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ বিপুল উন্নয়ন করেছে। অন্যদিকে বিএনপিতে নেতৃত্ব নেই। তাদের কোনও নির্বাচনী প্রস্তুতিও নেই। ফলে তাদের জেতার কোনও সুযোগ নেই।

বৈঠক সূত্র আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলেও সুষ্ঠু ভোট হবে। এ ক্ষেত্রে বেশি বেশি ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে। এ জন্য জনসংযোগ বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে রাজবাড়ীর সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী জেলা আওয়ামী লীগের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার পরও এলাকায় তিনি সভা–সমাবেশ করতে পারেন না। জেলা আওয়ামী লীগের অনুমতি ছাড়া তিনি কিছু করতে পারবেন না বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  ৬ মাসের মুদ্রানীতি ঘোষণা করল বাংলাদেশ ব্যাংক

কেরামত আলী বলেন, তার ভাই কাজী ইরাদত আলী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকেই তিনি নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন। সংসদ সদস্য হয়েও কি এলাকায় যেতে পারবেন না, এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আরেক সংসদ সদস্য জিল্লুল হাকিম।

বৈঠকে সূচনা বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। পরে তিনি অন্য সংসদ সদস্যদের বক্তব্য শোনেন। জানা গেছে, এ সময় নারায়ণগঞ্জের শামীম ওসমান, লক্ষ্মীপুরের নুর উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রামের আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আরমা দত্ত, সৈয়দা রুবিনা আক্তার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন  ‘আমরা একসময় চাঁদেও যাব, এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে’: প্রধানমন্ত্রী

সভায় চট্টগ্রামসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৩ আসনের এমপি উপস্থিত ছিলেন বলে জানান চট্টগ্রাম–৮ আসনের এমপি নোমান আল মাহমুদ। একাদশ জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের এটি অষ্টম ও শেষ সভা। তাই এমপিদের কাছে এই সভা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

নোমান জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- সাড়ে ৩ কোটি সরকারি বিভিন্ন সুবিধাভোগী পরিবারের ৯ থেকে ১০ কোটি মানুষের কাছে সরকারের উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। যে সময় আছে সেটাকে কাজে লাগাতে এমপিদের নির্দেশ দিয়েছেন। এমপিদের দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সরকারের উন্নয়নের বার্তা নিয়ে জনগণের কাছে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

নোমান আল মাহমুদ আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেছেন, জনগণের কাছে যেতে হবে, ভোটারের কাছে যেতে হবে। নির্বাচনে কে আসছে না আসছে সেটা বড় কথা নয়, যথাসময়ে সংবিধান অনুযায়ী সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।

ট্যাগঃ

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের আরও

সর্বশেষ