ঢাকা, -

আলোচিত সংবাদ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ‘বাসন্তী পূজায়’ উৎসবের আমেজ

ছবি- সংগৃহীত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে এই প্রথমবারের মতো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব বাসন্তি পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

লোকনাথ সেবাশ্রমের উদ্যোগে আয়োজিত এই পূজা কর্মসূচি শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাতে আরব সাগর তীরে দেবী দুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে।

পূজা উৎসব চলবে আগামী ৭ এপ্রিল সোমবার পর্যন্ত, যেদিন দশমীর বিহিত পূজা ও বিসর্জনের মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটবে।

এই ঐতিহাসিক আয়োজনকে ঘিরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসী হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই প্রথমবারের পূজা আয়োজনকে তারা একটি সূচনা হিসেবে দেখছেন এবং ভবিষ্যতেও প্রতিবছর রীতি অনুযায়ী বাসন্তি পূজার আয়োজন অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করেছেন। তারা দেশটির সব হিন্দু পরিবারকে এই পূজায় অংশগ্রহণের জন্য বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন  বায়োজিদ টেক্সটাইল এলাকায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৯ ইউনিট

বাসন্তি পূজার রয়েছে গভীর ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য। রামায়ণ কাহিনী অনুসারে, শ্রী রামচন্দ্র চৈত্র মাসে দেবী দুর্গার পূজা করেছিলেন রাবণ বধের জন্য। এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে বাংলাদেশ, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই পূজা পালিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বোয়ালখালীর  মেধস মনির আশ্রমে এই পূজার একটি সুপ্রাচীন ঐতিহ্য রয়েছে।

এবারের বাসন্তি পূজা ৩ এপ্রিল থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সময়ে ভক্তরা দেবী দুর্গার নয়টি রূপের পূজা করেন, যা চৈত্র নবরাত্রি নামেও পরিচিত। পূজার সূচনা হয় প্রতিপদ তিথিতে ঘট স্থাপনের মাধ্যমে, আর সমাপ্তি ঘটে দশমী তিথিতে দেবী বিসর্জনের মধ্য দিয়ে।

আরও পড়ুন  কক্সবাজারে ৩ কেজি আইসসহ মিয়ানমারের ২ নাগরিক আটক

পূজার দিনগুলিতে প্রতিদিন দুপুর ও রাতে প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়াও আয়োজন করা হয়েছে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, ভক্তিমূলক সঙ্গীত, রামায়ণ পাঠ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রবাসী হিন্দু সম্প্রদায় তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে লালন করার সুযোগ পাচ্ছেন।

এই অনন্য আয়োজন সম্পর্কে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, বিদেশের মাটিতে এভাবে পূজার আয়োজন করা আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। প্রথমবারের মতো বাসন্তি পূজা উদযাপন করতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত।

আরও পড়ুন  ইসরায়েল-হামাস নিয়ে ইলন মাস্কের সতর্কবার্তা

আয়োজকরা তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানিয়েছেন, আমরা আগামীতেও আরও বড় আকারে এই পূজার আয়োজন করতে চাই, যাতে সবাই অংশগ্রহণ করতে পারেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো একটি দেশে বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য এই ধর্মীয় আয়োজন কেবল একটি পূজাই নয়, বরং তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এই পূজা যেমন তাদের আধ্যাত্মিক চাহিদা পূরণ করছে, তেমনি সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সংহতিও সুদৃঢ় করছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের আয়োজন আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে বলে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের আরও

সর্বশেষ