চট্টগ্রাম নগরীতে বিএনপির ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ চলার সময় জামাল খান মোড়ে সড়কের পাশে দেয়ালজুড়ে বঙ্গবন্ধুর জীবন-কর্মের আলোকচিত্র নিয়ে তৈরি ম্যুরাল ভাংচুর হয়েছে।
এই ভাংচুরের জন্য বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদল, ছাত্রদলকে দায়ী করেছে ছাত্রলীগ। ভাংচুরে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৪ জুন) বিকালে কাজীর দেউড়িতে ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ ডাকে বিএনপির সহযোগী তিন সংগঠন যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল। এতে নগরীর বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি আশপাশের জেলা থেকে সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা দুপুর থেকেই মিছিল নিয়ে জড়ো হয়।
ওই সমাবেশস্থলের এক কিলোমিটার দূরে জামাল খান মোড়ে খাস্তগীর স্কুলের মাঠের দেয়ালে বঙ্গবন্ধুর জীবন-কর্ম নিয়ে গ্লাস ম্যুরাল স্থাপন করেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকাল পৌনে ৪টার দিকে বাকলিয়া ও চান্দগাঁও এলাকা থেকে যুবদল ও ছাত্রদলের মিছিল সমাবেশে যাওয়ার সময় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর করা হয়।
চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম বলেন, তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল করে যাওয়ার পথে কলেজে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় আমরা তাদের প্রতিহত করি। তারাই গিয়ে জামাল খানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙেছে।
কোতয়ালি থানার ওসি জাহেদুল কবীর বলেন, বাকলিয়া ও চান্দগাঁও থেকে ছাত্র ও যুবদলের কর্মীরা আসার সময় চট্টগ্রাম কলেজ এলাকাতেও গ্যাঞ্জাম করেছে। সেখান থেকে সমাবেশে যাওয়ার পথে জামালখানে ম্যুরাল ভাঙচুর করে।
পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর সঙ্গে যুক্ত বাকিদেরও শনাক্ত করা হচ্ছে এবং গ্রেপ্তার করা হবে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে, গণতান্ত্রিক পরিবেশে সব দলই মিছিল-সমাবেশ করছে। কিন্তু যুবদলের কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে ম্যুরালগুলো ভেঙে দিয়েছে। ৫০টি ম্যুরালের বেশিরভাগই ভেঙে ফেলেছে।
বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের স্থানীয় কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন বলেন, দীর্ঘদিনের জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতির অংশ হিসেবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা। আমরা ঘটনাস্থলে যুবদলের বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও টুপি পেয়েছি।
তিনি এ ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির সহযোগী সংগঠনগুলোর কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।














