যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য ইকোনমিস্ট সাময়িকীর ইকোনমিক ইনটেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) ২০২৩ সালের বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক সূচকে দুই ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ।
পাঁচটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে বিশ্বের ১৬৫টি দেশ ও দুটি অঞ্চলের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বুধবার এই সূচক প্রকাশ করে ইআইইউ। মানদণ্ডগুলো হলো- নির্বাচনি প্রক্রিয়া ও বহুদলীয় ব্যবস্থা, সরকারের কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নাগরিক অধিকারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
১০ স্কোরের ভিত্তিতে সূচকটি তৈরি হয়। পাঁচটি মানদণ্ড বিবেচনা করে পূর্ণ গণতন্ত্র, ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র, মিশ্র গণতন্ত্র এবং স্বৈরশাসন- এই চার শ্রেণিতে তৈরি করা হয়েছে সূচক। গড় স্কোর ৮ এর বেশি হলে পূর্ণ গণতন্ত্র, ৬ থেকে ৮ হলে ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র, ৪ থেকে ৬ হলে মিশ্র গণতন্ত্র এবং ৪ এর নিচে হলে সেই দেশে স্বৈরশাসন জারি রয়েছে বলে ধরা হয়।
২০২৩ সাল বিশ্বজুড়ে ‘গণতন্ত্রের জন্য একটি অশুভ বছর’ ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বছরই বৈশ্বিক গড় স্কোর সর্বনিম্ন স্তরে নেমেছে। তবে সুসংবাদ হলো ২০২৩ সালে বিশ্বে গণতান্ত্রিক দেশের সংখ্যা দুটি বেড়ে ৭৪-এ পৌঁছেছে।
বাংলাদেশের অবস্থান-
২০২৩ সালের সূচকে ৫ দশমিক ৮৭ স্কোর নিয়ে ৭৫তম স্থানে আছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০২২, ২০২১ ও ২০২০ সালে ৫ দশমিক ৯৯ স্কোর নিয়ে মিশ্র গণতন্ত্রের দেশের তালিকায় ছিল বাংলাদেশ। ২০১৯ সালে ছিল ৮৮তম স্থানে, আর স্কোর ছিল ৫ দশমিক ৫৭।
দ্য ইকোনমিস্ট প্রথম ২০০৬ সালে বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক সূচক প্রকাশ করে। তখন বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৬ দশমিক ১১। এরপর ২০০৭ সালে ৫ দশমিক ৫২, ২০০৮ সালে ৫ দশমিক ৮৭। তারপরের তিন বছর স্কোর ছিল ৫ দশমিক ৮৬।
২০০৬ সালে প্রকাশিত প্রথম গণতন্ত্র সূচকে ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক দেশের তালিকায় ছিল বাংলাদেশ, স্কোর ছিল ৬ দশমিক ১১। এর পরের বছর গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। স্থান পায় মিশ্র গণতন্ত্রের দেশের তালিকায়। সেই থেকে সেখানেই রয়েছে বাংলাদেশ।
যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশ-
২০২৩ সালের সূচকে গত বছরের মতোই ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রের দেশের তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যে দেশটি বিশ্বের অন্যান্য দেশকে গণতন্ত্রের ‘সবক’ দিয়ে থাকে। এবার দেশটির স্কোর ৭ দশমিক ৮৫, অবস্থান ২৯তম।
এবারের সূচকে ৯ দশমিক ৮১ স্কোর নিয়ে সবার ওপরে রয়েছে নরওয়ে। গত বারও এই অবস্থানে ছিল দেশটি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, যা ২০২২ সালেও এই স্থানে ছিল। দেশটির স্কোর ৯ দশমিক ৬১। ৯ দশমিক ৪৫ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে ফিনল্যান্ড।
সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে আছে ভারত। বাংলাদেশে প্রতিবেশী দেশটির স্কোর ৭ দশমিক ৪১। ৩ দশমিক ২৫ স্কোর নিয়ে ১১৮তম স্থানে রয়েছে পাকিস্তান, গত বছরের তুলনায় যা ১৪ ধাপ অবনতি।
গণতন্ত্র সূচকে বিদ্রোহ কবলিত মিয়ানমার ১৬৬তম স্থানে আছে। দেশটির স্কোর শূন্য দশমিক ৮৫। এ ছাড়া বিশ্ব থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন উত্তর কোরিয়া ১ দশমিক ০৮ স্কোর নিয়ে রয়েছে ১৬৫তম স্থানে।