- ভয়েস অফ এশিয়া - https://voiceofasiabd.net -

চসিকের দেওয়ানবাজার ওয়ার্ড সচিবের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) দেওয়ানবাজার ওয়ার্ড সচিবের বিরুদ্ধে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১১ অক্টোবর) এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও গণমাধ্যমের হাতে আসে। এতে ওই ওয়ার্ড সচিবকে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে আপত্তিকর কাজ করাতে দেখা গেছে।

অভিযুক্ত মোতাহের হোসেন ২০ নম্বর দেওয়ানবাজার ওয়ার্ড সচিবের দায়িত্বে আছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি যৌন নিপীড়ন চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ করেছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। তবে ওয়ার্ড সচিবের দাবি, তাঁকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করা হয়েছে।

জানা গেছে, দেওয়ানবাজার ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন ৭৪ জন। চসিকের অন্য ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক কর্মীদের কাজ বণ্টন, হাজিরাসহ বাকি কাজ দেখভাল করলেও ২০ নম্বর ওয়ার্ডে সচিব মোতাহের হোসেনই তা দেখেন। অভিযোগ, পরিচ্ছন্নতা তত্ত্বাবধায়ককে তিনি কাজ করতে দেন না। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নানাভাবে যৌন হয়রানি করেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের হাজিরা নিয়ে নয়ছয় করার অভিযোগ রয়েছে। কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী পুরো মাসে অনুপস্থিত থাকলেও তিনি হাজিরা খাতায় উপস্থিত দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেন।

আরও পড়ুন  পটিয়ায় কাপড় ব্যবসায়ীকে মারধর করে টাকা ছিনতাই

গণমাধ্যমের হাতে আসা ভিডিওটি ধারণকারী পরিচ্ছন্নতাকর্মী জানান, গত ৬ অক্টোবর তিনি ভিডিওটি ধারণ করেন।

তিনি বলেন, আমাদের এক সহকর্মীকে স্যার আপত্তিকর কাজ করতে বলেন। সে না করলে তাঁকে কাজে অনুপস্থিত দেখানোসহ নানা হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। পরে সে কৌশলে বের হয়ে আমাকে জানালে আমি ওয়ার্ড অফিসে যাই। গিয়ে দেখি ওয়ার্ড সচিব ওই সহকর্মীকে আপত্তিকর কাজে বাধ্য করেছেন। পরে কৌশলে ভিডিওটি ধারণ করি। তবে তিনি জেনে যাওয়ায় এখন আমার চাকরি কেড়ে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। আমি এখন ভয়ে আছি।

আরও পড়ুন  ৫৯৫ টাকায় গরুর মাংস মিলবে সেই খলিলের দোকানে

আরেক পরিচ্ছন্নতাকর্মী গণমাধ্যমকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা ওয়ার্ড সচিবের হাতে নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছি। কারও কাজে আসতে একটু দেরি হলে তিনি টাকা কেটে নেন। আবার তাঁর সঙ্গে অনৈতিক কাজ করতে বাধ্য করেন। পুরুষ ও নারী উভয়ের সঙ্গে তিনি এসব কাজ করেন। লজ্জায় কেউ অভিযোগ করেন না।

এ বিষয়ে দেওয়ানবাজার ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা তত্ত্বাবধায়ক আনিসুল হক চৌধুরী বলেন, অন্য ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সব দেখভাল করেন সুপারভাইজাররা। এই ওয়ার্ডে ব্যতিক্রম। আমি শুধু তাদের কাজ দেখভাল করি। হাজিরা, কাজ বণ্টন এসব ওয়ার্ড সচিব করেন।

আরও পড়ুন  বাঁশখালীতে চাচার হামলায় প্রাণ গেল ভাতিজার

ওয়ার্ড সচিব মোতাহের হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ধরনের কাজ করার প্রশ্নই আসে না। আমাকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে। তাদের কাজের জন্য চাপ দিই, তাই তারা আমার ওপর ক্ষিপ্ত। এজন্য আমাকে ফাঁসাতে ভিডিও এডিট করে এসব করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল হাশেম গণমাধ্যমকে বলেন, অভিযোগটি খুবই গুরুতর। যদি সত্যি হয়, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তথ্যসূত্র- সমকাল।