- ভয়েস অফ এশিয়া - https://voiceofasiabd.net -

জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনে খসড়া অধ্যাদেশ

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের সুরক্ষা এবং সংবাদমাধ্যমের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনে একটি খসড়া অধ্যাদেশ করেছে সরকার।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৬’ এর খসড়া করেছে। খসড়ায় কমিশনের কাঠামো, সদস্য নিয়োগ প্রক্রিয়া, ক্ষমতা ও কার্যপরিধি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যম তদারকি, ভোক্তা অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন একটি স্থায়ী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে।

কমিশনে একজন চেয়ারম্যান ও আটজন সদস্যসহ মোট নয়জন থাকবেন। সদস্যদের মধ্যে অন্তত একজন নারী এবং একজন ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বা নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধি রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। চেয়ারম্যান প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সদস্যদের মধ্য থেকেই একজন সদস্য সচিব নিয়োগ দেবেন।

আরও পড়ুন  আফছারুল আমীনের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগে সুপারিশ দিতে পাঁচ সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠন করা হবে। এতে আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, একজন বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক এবং ২০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দুইজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক থাকবেন। বাছাই কমিটি প্রতিটি পদের বিপরীতে দুইজন করে যোগ্য ব্যক্তির নাম রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে। রাষ্ট্রপতি সর্বোচ্চ চার বছরের জন্য চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ দেবেন।

আরও পড়ুন  তিন দফা দাবিতে রবিবার থেকে পেট্রল পাম্পে তেল সরবরাহ বন্ধ

অধ্যাদেশে কমিশনের দায়িত্ব ও ক্ষমতা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-

১) সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষা।
২) গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার জন্য নৈতিকতা, আচরণবিধি ও উত্তমচর্চার মানদণ্ড প্রণয়ন।
৩) ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যম নিয়ে ভোক্তা অভিযোগ নিষ্পত্তি।
৪) সাংবাদিকদের ন্যূনতম যোগ্যতা, পেশাগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৫) হয়রানি, যৌন হয়রানি, সহিংসতা, অবৈধ আটক বা গুমের শিকার সাংবাদিকদের সুরক্ষায় সরকারকে সুপারিশ।
৬) সাংবাদিকদের সম্মানি ও পারিশ্রমিক বিষয়ে সরকারকে সুপারিশ এবং প্রয়োজন হলে প্রতিকার প্রদান।
৭) এছাড়া সাংবাদিকদের ইমেইল, মোবাইল ফোন, ব্যক্তিগত তথ্য ও পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষায় সুরক্ষার কথাও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন  আন্তর্জাতিক আদালতে ড. ইউনূসসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ভোক্তা অভিযোগ বা বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কমিশন সংশোধনমূলক ব্যবস্থা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে। কমিশনের নির্দেশ অমান্য করলে সরকারের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে। তবে কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপিলের সুযোগ রাখা হয়েছে।