একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে তুরস্কে। ৭ দশমিক ৮ মাত্রার এ ভূমিকম্পের কম্পন রাজধানী আঙ্কারাসহ তুরস্কের সব অঞ্চলে অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের ফলে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
স্থানীয় সময় সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এ তথ্য নিশ্চিত করে। খবর আল-জাজিরার।
ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূ-কম্পনটির উৎপত্তিস্থলে গভীরতা ছিল ২৪ দশমিক ১ কিলোমিটার। তুরস্কের গাজিয়ান্তেপ প্রদেশের নূরদাগি শহরের পূর্বাঞ্চল থেকে আঘাত হানে এটি।
তুরস্কের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলেও শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়েছে। মূল ভূ-মকম্পনটি আঘাত হানার প্রায় ১১ মিনিট পর আরেক দফায় আঘাত হানে ভূমিকম্প। ৬ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী আফটারশক মূল ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের প্রায় ৩২ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে আঘাত হানে। ১৯ মিনিট পরে, ৫ দশমিক ৬ মাত্রার আরেকটি তীব্র আফটারশক অনুভূত হয়।
দুইজন স্থানীয় তুর্কি কর্মকর্তার বরাতে আল-জাজিরা বলেছে, ভূমিকম্পে কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ভিডিওতে দেশের দক্ষিণ-পূর্বের বেশ কয়েকটি শহরে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন দেখানো হয়েছে।
ইস্তাম্বুলে থাকা আল-জাজিরার সিনেম কোসেওগ্লু বলেছেন, ভূমিকম্পটি তুরস্ক জুড়ে দক্ষিণ শহর থেকে কৃষ্ণ সাগর পর্যন্ত অনুভূত হয়েছিল। তিনি বলেন, গাজিয়ানটেপের মতো শহরগুলোতে তুর্কি নাগরিক ছাড়াও সিরিয়ার শরণার্থীরাও বসবাস করেন।
তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্তর্জাতিক সাহায্য প্রয়োজন হতে পারে।
গাজা উপত্যকায় বিবিসির একজন প্রযোজক রুশদি আবুলউফ বলেছেন, তিনি যে বাড়িতে ছিলেন সেখানে প্রায় ৪৫ সেকেন্ড কাঁপুনি ছিল।
তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সানলিউরফা প্রদেশের গভর্নর সালিহ আয়হান টুইটারে বলেছেন, উদ্ধারকাজ চলছে এবং লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।
গাজিয়ান্তেপের গভর্নর দাভুত গুল টুইটারে বলেছেন, ‘শহরে ভূমিকম্পটি প্রবলভাবে অনুভূত হয়েছে।’ গুল জনসাধারণকে বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করার এবং শান্ত থাকার পরামর্শও দিয়েছেন।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেমন সোয়লু বলেছেন, ১০টি শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো হলো- গাজিয়ানটেপ, কাহরামানমারাস, হাতায়, ওসমানিয়ে, আদিয়ামান, মালত্য, সানলিউরফা, আদানা, দিয়ারবাকির এবং কিলিস।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তৎক্ষণাৎ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এবং কম ক্ষতিসহ এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠব।