ঢাকা, -

আলোচিত সংবাদ

নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজিতে ‘বিব্রত’ শিবির ক্যাডার নাছির

সংবাদ সম্মেলনে নাছির উদ্দিন চৌধুরী (নীল কোট পরা)। ছবি- সংগৃহীত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

নাছিরের নাম ভাঙিয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে একটি চক্র চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম পুলিশের এক সময়ের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী নাছির উদ্দিন চৌধুরী ওরফে ‘শিবির নাছির’।

দুষ্টচক্র চাঁদাবাজি করছে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আমার মুক্তি লাভের পর আমি ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে নিজেকে ব্যাস্ত রাখি। এই সুযোগে কতিপয় দুষ্টচক্র আমার নাম ভাঙিয়ে গার্মেন্টস, বালু মহাল এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এবং চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চাঁদাবাজি করছে।

তিনি দাবি করেন, সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজির সাথে কোনোদিন জড়িত ছিলেন না, এখনো নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন না।

বুধবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে নগরীর চকবাজার এলাকায় নিজের নতুন অফিসে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এই অভিযোগ করেন।

র‍্যাব-পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী নাছির একসময় শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় ‘‘শিবিরক্যাডার নাছির’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

নাছির উদ্দিন চৌধুরী ওরফে ‘‘শিবিরক্যাডার নাছিরের’ বিরুদ্ধে জোড়া খুন, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও অস্ত্র আইনের মামলা ছিল ৩৬টি। একে একে খালাস পেয়েছেন ৩১টি মামলায়। দুটিতে সাজা হলেও আগে কারাভোগে শেষ হয়ে যায়। আছে আর তিনটি মামলা।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রামে 'ফ্যামিলি কার্ড' পাচ্ছে ৫ হাজারের অধিক পরিবার, প্রথম ধাপের উদ্বোধন আজ

তিনটি মামলায় জামিন নিয়ে দীর্ঘ ২৬ বছর পর গত বছরের ১১ আগস্ট কারাগার থেকে বের হন নাছির।

জামিনে বের হয়ে তিনি চকবাজার এলাকায় ‘এনসি ট্রেডিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হয়েছেন।

কারা সূত্র জানায়, ১৯৯৮ সালের ৯ এপ্রিল থেকে কারাগারে ছিলেন নাছির। দীর্ঘ ২৬ বছর পর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ফটিকছড়িতে তিনটি হত্যা মামলা বিচারাধীন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, তার নাম ভাঙিয়ে কে বা কারা চট্টগ্রাম ও আশপাশের বিভিন্ন জেলার লোকদের ফোন দিয়ে চাঁদা দাবি করছে। চাঁদাবাজির এই ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে দুই মাস আগে নগরীর চকবাজার থানায় নিজে সাধারণ ডায়রিও করেছেন। কিন্তু পুলিশ কাউকেই চিহ্নিত করতে পারেনি।

নাছির বলেন, একটি পক্ষ যারা চাঁদাবাজ এবং সুবিধাবাদী, তারা রাজনৈতিক দলের কেউ নয়, আমার কর্মী বা সমর্থক কেউ নয়, তারা এ কাজগুলো করছে। আমি নিজে পুলিশকে ঘটনা শোনার পর তদন্ত করতে বলেছি। নিজে দুটি ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে দেখেছি মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও খাগড়াছড়ি থেকে ফোন দিয়ে আমার নামে চাঁদা তোলা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  চবি ছাত্রলীগের মিছিল থেকে বহিরাগত কর্মী আটক, মুচলেখায় ছাড়ল প্রশাসন

আমি তো পুলিশ না। আমি আইন মেনে চলতে চাই। আমি পাবলিকের সাহায্য চাই। কেউ আমার নামে চাঁদা চাইলে আপনারা আমাকে জানাবেন, পুলিশে অভিযোগ করবেন, বলেন তিনি।

আদালত সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৪ অক্টোবর নাছিরের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রাবাসে পুলিশের ওপর হামলার মামলায় রায় হয়। এতে নাছিরের ৫ বছর কারাদণ্ড সাজা হয়েছিল।

এর আগে, ২০০৮ সালে অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের সাজা হয়। ২০১৫ সালের ২৪ মার্চ চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জমির উদ্দিন হত্যা মামলায় খালাস পান নাছির। ১৯৯৪ সালের ২০ নভেম্বর জমিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নাজিরহাট কলেজের অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরি ও হাটহাজারীর তিন খুনের মামলায় খালাস পান নাছির। ২০০১ সালের ১৬ নভেম্বর সকালে চট্টগ্রামের জামাল খান রোডে অধ্যক্ষ মুহুরির বাসায় ঢুকে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যা করে। এভাবে ৩১টি মামলায় খালাস পান নাছির।

আরও পড়ুন  তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ বন্ধ

নাছির হাটহাজারীর মন্দাকিনী এলাকার এলাহী বক্সের ছেলে। ১৯৮২ সাল থেকে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়তে থাকেন তিনি।

তাকে সর্বপ্রথম নগরের চকবাজার এলাকার একটি রেস্তোরাঁ থেকে গ্রেপ্তার করেন সাবেক মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক। ঘটনার সময় ১৯৯৩ সালের মে মাসে তিনি চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে নাছির জামিনে বেরিয়ে আসেন। এরপর ১৯৯৮ সালে দ্বিতীয়বারের মতো চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রাবাস থেকে নাছিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে দীর্ঘ ২৬ বছর জেলেই ছিলেন তিনি।

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের আরও

সর্বশেষ