বান্দরবানের সুয়ালকে পর্যটকবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ১৭ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
রবিবার (২২ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে বান্দরবান-কেরানিহাট সড়কের সুয়ালক কিউবি রেস্টুরেন্টের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে আসা সৌদিয়া পরিবহনের একটি পর্যটকবাহী বাস (যাত্রী সংখ্যা ৪০-৪৫ জন) বান্দরবান প্রবেশের মুখে সুয়ালক এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। যাত্রীদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
আহতরা হলেন- ঢাকা মিরপুর এলাকার প্রিয়নাথ দাশের ছেলে পল্লব দাশ (২৮), পুরান ঢাকা এলাকার মনির হোসেনের ছেলে রিয়াদ (২৫), নকুল দাশের ছেলে প্রিতম দাশ (২০) শিবু সেনের ছেলে চিরঞ্জিৎ সেন (২৭), রাদেস স্যাম দাশের ছেলে রিমন দাশ (২৭), আবদুল কাদেরের ছেলে আলামিন (২৬) কিশোরগঞ্জের জাহাঙ্গীরের ছেলে শিফাত মাহমুদ (২৬), খিলক্ষেত এলাকার বজলুর রহমানের ছেলে সোহেল (৩৮), মো. সোহেলের স্ত্রী ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস (৩২), মোহাম্মদ পুর এলাকার নুরুল জামান রিপনের ছেলে নাফি রেজওয়ান (৩৮),বিক্রমপুরের সিয়াম মণ্ডলের ছেলে সৌরভ মন্ডল (৩৮)। তাৎক্ষণিকভাবে অন্যদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
বাসে থাকা পর্যটক উৎস পাল অভিযোগ করেন, চালক ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সতর্ক থাকলেও এরপর থেকে খুবই অগোছালোভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। এ নিয়ে যাত্রীরা তাকে সতর্কও করেছিলেন। তিনি জানান, সুয়ালক এলাকায় একটি বাঁক ঘোরার সময় হয়ত ঘুমের ঘোরে চালক ব্রেকের বদলে এস্কেলেটরে চাপ দেন, যার ফলে গাড়িটি সরাসরি খাদে পড়ে যায়।

বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র অফিসার ইকবাল হাসান বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভর্তি এবং এদের মধ্যে গুরুতর আহত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে চট্টগ্রামে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
বন্দরবান সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাক্তার ধীমান চৌধুরী বলেন, ভোর ৬টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত প্রায় ২০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে তাদের চট্টগ্রামে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ ভর্তি নেওয়া অধিকাংশ রোগীরা নিজ থেকে রিলিজ নিয়ে চলে গেছেন বলে জানান তিনি।