- ভয়েস অফ এশিয়া - https://voiceofasiabd.net -

সাদিক এগ্রোর ইমরানের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের প্রমাণ মিলেছে: সিআইডি

‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত সাদিক এগ্রোর মালিক ইমরান হোসেন চোরাচালান, প্রতারণা ও জালিয়াতি করে অন্তত ১৩৩ কোটি টাকা উপার্জন করেছেন, যার মধ্যে ৮৬ লাখ টাকা পাচার হয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মঙ্গলবার (৪ মার্চ) বিকেলে ইমরানের বিষয়ে ‘প্রাথমিক অনুসন্ধানে’ পাওয়া তথ্য জানাতে মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। সেখানে সিআইডির ‘অর্গানাইজড ক্রাইম’ বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি একরামুল হাবীব বলেন, ইমরান ও তার ব্যবসায়িক অংশীদার তৌহিদুল আলম জেনিথসহ এই চক্রের বিরুদ্ধে অর্থপাচার আইনে সোমবার মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়।

একরামুল হাবীব বলেন, তারা ‘মানি লন্ডারিং’ করে ১৩৩ কোটি ৫৫ লাখ ৬ হাজার ৩৪৪ টাকা অর্জন করেছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে। প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অনুমোদনহীন ব্রাহমা জাতের গরু আমদানি ও সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে পাচার করেছে প্রায় ৮৬ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন  মীরসরাইয়ে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, মায়ের দাবি হত্যা

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে গরু ও মহিষ আনতেন। ভুটান ও নেপাল থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে ছোট আকৃতির ভুট্টি গরু বাংলাদেশে আনতেন। পরে এগুলো তিনি উচ্চ মূল্যে বিক্রি করতেন। তিনি প্রতারণার মাধ্যমে দেশীয় গরু ও ছাগলকে বিদেশি ও ‘বংশীয়’ গরু ও ছাগল বলে প্রচার চালিয়ে উচ্চ মূল্যে কোরবানির পশুর হাটে বিক্রি করতেন। এভাবে আয় করা ১২১ কোটি ৩২ লাখ ১৫ হাজার ১৪৪ টাকা তিনি বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রাম যুবদলের নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার সোমবার

এ ছাড়া অবৈধ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত ১১ কোটি ৩৬ লাখ ৯১ হাজার ২০০ টাকা ইমরান তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান জালালাবাদ মেটাল লিমিটেডের নামে এফডিআর খুলে বিনিয়োগ করেন।

সিআইডি জানায়, প্রাথমিকভাবে মানি লন্ডারিংয়ের তথ্য-উপাত্ত পাওয়ার পর গতকাল ইমরান হোসেনসহ সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা করে সিআইডি। মামলায় ইমরান হোসেন, সাদিক এগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদুল আলম (৪৫) এবং অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের মাধ্যমে অর্জিত প্রায় ১৩৩ কোটি ৫৫ লাখ ৬ হাজার ৩৪৪ টাকা টাকা হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রামে শিশু বলাৎকারের দায়ে দোকানির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

গত বছর কোরবানির ঈদে ইমরানের সাদিক এগ্রো থেকে ১৫ লাখ টাকায় (প্রাথমিক দর) ‘উচ্চবংশীয়’ ছাগল কেনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হন তৎকালীন এনবিআর সদস্য মতিউর রহমানের ছেলে মুশফিকুর রহমান ওরফে ইফাত। এরপর আলোচনায় আসে সাদিক এগ্রো খামার।

বেশি দামে গরু বিক্রি করে আলোচিত ছিল সাদিক এগ্রো। দেশে নিষিদ্ধ ব্রাহমা জাতের ১৮টি গরু আমদানি করেছিল সাদিক এগ্রো। কাস্টমস বিভাগ বিমানবন্দরে সেই গরু জব্দ করে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর অবশ্য কৌশলে সেই গরু সাদিক এগ্রোকেই দিয়েছিল।

গত জুলাই মাসে সাদিক এগ্রোর মালিক ইমরান হোসেন ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ছয় কর্মকর্তাকে আসামি করে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।