চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারি) আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭মবার নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি।
তিনি বিজয়ী হবার পর গণমাধ্যমকে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, আমি আগামী ৫টি বছর হাটহাজারির মানুষের সাথে থাকবো, কাজ করবো এবং পাশে থাকবো। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি হাটহাজারি হবে সম্পূর্ণ শান্তির জনপদ। পুনরায় ৭বারের মত সাংসদ নির্বাচিত করায় হাটহাজারিবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ।
লাঙ্গল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৫০ হাজার ৯৭৭ ভোট। তাঁর নিকটতম আওয়ামী স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী (কেটলি) পেয়েছেন ৩৬ হাজার ২৫১ ভোট।
রবিবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম জিমনেশিয়াম মিলনায়তনে ফলাফল ঘোষণা কেন্দ্র থেকে সর্বশেষ এ তথ্য পাওয়া গেছে।
জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক আনোয়ার পাশা এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৯ সালে প্রথম সংসদ সদস্য হন এ আসন থেকে। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভায় যোগ দেন আনিস।
জানা গেছে, ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে হাটহাজারী থেকে আরও দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। এরশাদের আমলে ব্যারিস্টার আনিস প্রথমে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী পরে পানিসম্পদ, শিক্ষা, শ্রম ও কর্মসংস্থান, তথ্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ১২ হাজার ভোট পেয়ে তিনি জামানত হারান। এরপর ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ না করলেও ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে মহাজোট থেকে নির্বাচন করেন। এ সময় বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমকে পরাজিত করে চতুর্থবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
হাটহাজারি গুমানমর্দন ইউনিয়নের ছাদেকনগর গ্রামের মরহুম সিরাজুল ইসলাম মাহমুদ ও মরহুমা সাজেদা বেগম চৌধুরাণীর বড় ছেলে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম। তারা তিন ভাই ও এক বোন।