ঢাকা, -

আলোচিত সংবাদ

হাটহাজারীতে ‘তিন ব্যারিস্টার’র নির্বাচনী হলফনামায় কার কত সম্পদ

ছবি- সংগৃহীত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

নির্বাচনী হলফনামায় কোন প্রার্থী সম্পদের বিবরণ কেমন দিয়েছেন, কার কত সম্পদ এ নিয়ে সাধারণ মানুষের বেশ কৌতূহল থাকে। চট্টগ্রামের প্রার্থীদের হলফনামায় সম্পদের বিবরণ কে কেমন দিলেন তা নির্বাচন কমিশন সুত্রে জানা যাচ্ছে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৫ আসনে যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তাদের মধ্যে তিনজন বেশ পরিচিত। লোকজন তাদের হেভিওয়েট হিসেবে চেনে। এ আসনে একজন প্রবীন, দুজন নবীন। তারা তিনজনই ব্যারিস্টার।

তিনজনের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ ও দীর্ঘদিন রাজনীতির অঙ্গনে থাকা জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সম্পদ অন্য দুইজনের চেয়ে বেশি, যার মূল্যমান ৩৯ কোটি ৯১ লাখ ৪৮ হাজার ২৫৩ টাকা।

আরেকজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীনের ছেলে বিএনপির প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের সম্পদ রয়েছে ১১ কোটি ৬৫ লাখ ৬৩ হাজার ৯৫৭ টাকার।

আর জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ও প্রয়াত বিএনপি নেতা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে সাকিলা ফারজানার সম্পদের পরিমাণ ৯৪ লাখ ৪৮ হাজার ৯২৯ টাকা।

হাটাহাজারী উপজেলা ও নগরীর ১ ও ২ নম্বর (আংশিক বায়েজিদ) ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৫ আসনে দাখিল করা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে তারা যে হলফনামা দিয়েছেন সেখানে তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদসহ বিভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছে।

এ আসনে তিন ছাড়াও আরও সাতজন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

আনিসুল ইসলাম হলনামায় পেশা ঘরে লিখেছেন ‘ব্যবসা’। অপর দুইজন আইন পেশায় নিয়োজিত থাকার তথ্য দিয়েছেন। হলফনামায় আনিস স্ত্রী পারভীন মাহমুদের পেশা ‘চাটার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট’ লেখা হয়েছে।

অপরদিকে মীর হেলালের স্ত্রী নওশীন আরজান হেলাল গৃহিনী।

বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া সাকিলা ফারজানার স্বামীর পেশা ব্যবসা।

আরও পড়ুন  সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু

হলফনামায় সম্পদের যে বিবরণ দিয়েছেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, যেখানে নিজের ৪৬ কোটি টাকা ও স্ত্রীর ১৫ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ থাকার কথা বলেছেন। আয়কর রিটার্নে তাদের সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে যথাক্রমে ৩৯ কোটি ৯১ লাখ ৪৮ হাজার ২৫৩ টাকা ও ১৪ কোটি ৬১ লাখ ৮১ হাজার ৭৩০ টাকা।

আনিসুল ইসলাম ২০২৫-২৬ করবর্ষে আয়কর দিয়েছেন ১ কোটি ৩৮ লাখ ১৯ হাজার ১৫৬ টাকা। তার স্ত্রী পারভীনের দেওয়া আয়করের পরিমাণ ৪২ লাখ ৬৯ হাজার ৫১২ টাকা।

মীর হেলাল তার সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ১৩ কোটি, আর পেশায় গৃহিনী তার স্ত্রী নওশীনের নগদ টাকা আছে ২০ লাখ।

সাকিলা ফারজানা নিজের নামে আড়াই কোটি এবং স্বামী মো. বাহাউদ্দিনের নামে ১০ কোটি টাকার সম্পদ থাকার তথ্য দিয়েছেন হলফনামায়।

কার কত সম্পদ-

আনিসুল ইসলাম তার হলফনামায় আয়ের উৎস দেখিয়েছেন চাকরির সম্মানী, শেয়ার, বন্ড ও সঞ্চয়পত্র। এরমধ্যে চাকরির সম্মানী থেকে তার বছরে আয় ২৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে আয় করেন ৩ কোটি ৪৩ লাখ ৭৩ হাজার ৭৩৪ টাকা।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সাবেক মন্ত্রী আনিসুল ইসলামের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের হাতে নগদ টাকা আছে ২ লাখ ২০ হাজার এবং স্ত্রী পারভীনের আছে নগদ ১৫ লাখ ৭০ হাজার ১২ টাকা।

জাতীয় পার্টির একাংশের এই নেতার নিজের ব্যাংকে জমা ১ কোটি ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪১৪ টাকা, স্ত্রীর ব্যাংকে জমা আছে ৪ কোটি ৭৭ লাখ ৫ হাজার ৯৮৫ টাকা।

আরও পড়ুন  ঢাকার জুরাইনে ছুরিকাঘাতে আহত ২

শেয়ার, বন্ডসহ বিভিন্ন খাত থেকে নিজের আয় ২৩ কোটি ৩৬ লাখ ৭৬ হাজার ৪২২ টাকা দেখিয়েছেন আনিসুল ইসলাম। আর স্ত্রীর আয় ৬ কোটি ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৯৪৭ টাকা।

সব মিলিয়ে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ তার অস্থাবর সম্পদের মূল্য দেখিয়েছেন ৩৭ কোটি ৩৬ লাখ ২ হাজার ৭৬৬ টাকা ও স্ত্রীর ১২ কোটি ১১ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ টাকা।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে তিনি নিজের ভবনের দাম দেখিয়েছেন ৭ কোটি ২২ লাখ ৬১ হাজার ৯৫৮ টাকা, ১৫ কাঠার প্লটের দাম ১০ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

আনিসুল ইসলামের স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে ভবনের দাম দেখানো হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ৫৯ হাজার ১২২ টাকা, এক হাজার ৫৯০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের দাম ৩৪ লাখ ৩২ হাজার। পারভীন মাহমুদ খামার থেকে আয় করেছেন ৩৪ লাখ ৩২ হাজার টাকা।

মীর হেলাল তার আইন পেশা থেকে বছরে ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত থেকে আয় করেন ২৩ লাখ ৪১ হাজার ৬৭৯ টাকা। বাড়ি ভাড়া পান ৯ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ টাকা এবং কৃষি খাত থেকে আসে ৪০ হাজার টাকা।

মীর হেলালের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ টাকা আছে ৫ কোটি ৬৭ লাখ ২৬ হাজার ৫৮৮ টাকা। তার ব্যাংক জমা ২ লাখ ৯২ হাজার ৩৬৮ টাকা, শেয়ার ও বন্ড আছে ৪ লাখ ৫ হাজার ৪২২ টাকার, স্থায়ী আমানত ও সঞ্চয়পত্রের পরিমাণ ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। গাড়ির মূল্য ২৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা দামের গাড়ি আছে তার।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রামে আশ্রয়ণ প্রকল্পের নারী বাসিন্দাকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩

সব মিলিয়ে মীর হেলাল তার অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য দেখিয়েছেন ১০ কোটি ৫২ লাখ ১৫ হাজার ৯৫৭ টাকা।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে মীর হেলাল উত্তরাধিকার সূত্রে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুইটি ফ্ল্যাট পেয়েছেন, এগুলোর দাম ৩ কোটি ১১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। তবে স্ত্রীর কোনোর স্থাবর সম্পদ থাকার তথ্য নেই তার হলফনামায়।

সাকিলা ফারজানা তার আইন পেশা থেকে ১৪ লাখ ২৫ হাজার ৪০ টাকা এবং শেয়ার ও বন্ড থেকে ৫ হাজার ২৮৮ টাকা আয় দেখিয়েছেন হলফনামায়।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে সাকিলার নগদ টাকা আছে ৫ লাখ ৪ হাজার ৯১৭ টাকা। তার স্বামী বাহাউদ্দিনের নগদ আছে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৫ টাকা।

সাকিলার নিজের ব্যাংক হিসাবে জমা আছে ৩ লাখ ৫০ হাজার ৭ টাকা। তিনি ৫৫ ভরি স্বর্ণ ও ৮৫ লাখ ৮৯ হাজারসহ মোট ১ কোটি ৬৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দিয়েছেন হলফনামায়।

ডিপিএস ও সঞ্চয় হিসাবে ব্যবসায়ী স্বামীর জমা আছে ১৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, শেয়ার ও বন্ড আছে ২ কোটি ৩০ লাখ ৬৩ হাজার ১৪৫ টাকার।

সাকিলার স্বামীর স্থায়ী আমানত হিসাবে আছে ১১ লাখ ২৬ হাজার ৯৮৯ টাকা। গাড়ির মূল্য ৩৯ লাখ ১ হাজার টাকাসহ তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে সাকিলা ফারজানার চট্টগ্রাম নগরীর দক্ষিণ পাহাড়তলী খুলশী এলাকায় একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার বর্তমান মূল্য ৭০ লাখ টাকা। তার স্বামীর চট্টগ্রাম ও ঢাকার দুইটি ফ্ল্যাটের দাম দেখানো হয়েছে ৭ কোটি টাকা।

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের আরও

সর্বশেষ