ঢাকা, -

আলোচিত সংবাদ

সরকারি চাকরিতে ‘ডোপ টেস্ট’ বাধ্যতামূলক, পজিটিভ হলেই সর্বনাশ

ছবি- সংগৃহীত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বা মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করে নতুন বিধিমালা জারি করেছে সরকার। এখন থেকে পরীক্ষায় কারো মাদক গ্রহণের প্রমাণ বা ‘পজিটিভ’ ফল এলে তিনি সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য বাতিল বলে বিবেচিত হবেন।

গত সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ‘জৈব নমুনায় মাদকদ্রব্য শনাক্তকরণ (ডোপ টেস্ট) বিধিমালা-২০২৬’ সংক্রান্ত এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কেবল নতুন নিয়োগই নয়, বর্তমানে কর্মরত কোনো সরকারি কর্মচারীর ডোপ টেস্টের ফলাফল পজিটিভ এলে সেটি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এ ছাড়া কোনো ব্যক্তি মাদকাসক্ত হিসেবে শনাক্ত হওয়ার পর যদি নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ না করেন, তবে সেটিও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

আরও পড়ুন  শুটিং সেটে আহত শাহরুখ খান, নাকে অস্ত্রোপচার

উপসচিব মাহবুব আলম স্বাক্ষরিত এই বিধিমালায় একটি শক্তিশালী ‘ডোপ টেস্ট টেকনিক্যাল কমিটি’ গঠনের কথা বলা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এই কমিটির সভাপতি হবেন। ৯ সদস্যের এই বিশেষজ্ঞ কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাদক অণুবিভাগের উপসচিব, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বা মনোনীত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগের অধ্যাপক, সিআইডির ডিআইজি (ফরেনসিক), ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল মেডিসিন সেন্টারের পরিচালক এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালকসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা থাকবেন। প্রয়োজনে কমিটি নতুন সদস্য কো-অপ্ট বা যুক্ত করার ক্ষমতা রাখবে।

বিধিমালার আওতা কেবল সরকারি অফিসেই সীমাবদ্ধ নয়; বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হবে। এ ছাড়া গাড়ি বা যেকোনো যানবাহন চালনার লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের ক্ষেত্রে এবং কর্মরত অবস্থায় কোনো চালকের বিরুদ্ধে মাদক গ্রহণের সন্দেহ হলে ডোপ টেস্ট করা যাবে। স্থলযান ছাড়াও নৌযান, আকাশযান ও আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া ও নবায়নের ক্ষেত্রেও এই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একইসাথে বিদেশে যেতে ইচ্ছুক কর্মী এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ বা সন্দেহ থাকলে তাদের ক্ষেত্রেও ডোপ টেস্ট প্রযোজ্য হবে।

আরও পড়ুন  সুদানে আহত-নিহত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পরিচয় প্রকাশ

পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা রক্ষায় বিধিমালায় কঠোর নির্দেশন দেওয়া হয়েছে। যার ডোপ টেস্ট করা হবে, তাকে নির্দিষ্ট স্থানে সশরীরে উপস্থিত থেকে নমুনা দিতে হবে এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে ছবি ও আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ করতে হবে। নমুনার মোড়কে বা পরীক্ষার নথিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম-ঠিকানা বা জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ব্যবহার করা যাবে না। কেবল একটি কোড ব্যবহার করে গোপনীয়তা নিশ্চিত করা হবে এবং পরীক্ষার ফল কোনোভাবেই নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ ছাড়া অন্য কাউকে জানানো যাবে না।

আরও পড়ুন  দেশের নতুন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান

ল্যাবরেটরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছাড়া সেখানে অন্য কারো প্রবেশাধিকার থাকবে না। ল্যাবরেটরির ভেতরে ও বাইরে সিসি ক্যামেরা সার্বক্ষণিক সচল রাখতে হবে। পরীক্ষার প্রতিটি স্তরের ডেটাবেইজ অত্যন্ত সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং যান্ত্রিক ত্রুটি এড়াতে তথ্যের বিকল্প ব্যাকআপ রাখতে হবে। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই বিধিমালা পালনে ব্যর্থ হলে তা ‘দায়িত্বে অবহেলা’ হিসেবে গণ্য হবে। উল্লেখ্য, এর আগে কিছু প্রতিষ্ঠান বিচ্ছিন্নভাবে ডোপ টেস্ট চালু করলেও এখন বিধিমালার মাধ্যমে এটি প্রাতিষ্ঠানিক ও বাধ্যতামূলক রূপ পেল।

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের আরও

সর্বশেষ