জমি লিখে না দেওয়ায় ছোট ছেলের বিরুদ্ধে বৃদ্ধ মা বাবাকে মারধরের অভিযোগ এনে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বৃদ্ধ বাবা আলী আকবর (৬০)। এছাড়া ৩ লাখ টাকার ফসল নষ্ট করে পানির সেচ পাম্পে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় পেট্রোল দিয়ে বাড়ি পুড়য়ে দেবেও হুমকি দেয় অভিযুক্ত ওই ছেলে।
বুধবার (৮ মার্চ) সকালে ছেলের হাতে মারধরের শিকার বাবা-মা শরীরের ক্ষতচিহ্ন সাংবাদিকদের দেখিয়ে এসব অভিযোগ করেন।
এরআগে মঙ্গলবার (৭ মার্চ) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বক্ষ্মোত্তর হাজিপাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে জমির জন্য বাবা-মাকে মারধর করতে গেলে বাধা প্রদান করেন বড় ভাইয়ের স্ত্রী সুরমা আক্তার। এসময় তার ভাবিকেও মারধর করেন আবু জাহেদ।
বাবা আলী আকবর কান্নাজড়িত কন্ঠে অভিযোগ করে বলেন, আমার দুই ছেলে। বড় ছেলে বিদেশে আছে, ছোট ছেলে আবু জাহেদ প্রবাস থেকে এসেছে দুইমাস হলো। আসার পর থেকে আমাকে ও আমার স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে অত্যাচার করতে থাকে। জায়গা জমি সব নাকি তার নামে লিখে দিতে হবে। বলেছি আরেক ছেলে বিদেশে, সেও আসুক তখন সব ঠিক করবো। সে বাবা-মায়ের অবাধ্য, কারও কথা শুনতে রাজি না।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার শবে বরাত ছিল, সারাদিন রোজা রেখে ক্ষেতে কাজ করেছি। বাড়িতে ঢোকার সাথে সাথে জাহেদ আমাকে মারধর করতে থাকে, এসময় আমার স্ত্রী (জাহেদের মা) এগিয়ে আসলে থাকেও মেরে হাত ভেঙে দেয়।
তিনি আরও বলেন, এর আগে গত বৃহস্পতিবার বড় ছেলের বউ সুরমা আক্তারকেও মারধর করে বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে। আমরা নিরূপায় হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। অভিযোগ কেন করেছি? এটা বলতে বলতে শবে বরাতের রাতে আমাকে ও আমার স্ত্রীকে মারধর করে। এরপর ওই রাতে আমার ফসলি জমির মরিচ, বেগুন, লাউসহ সব ফসল নষ্ট করে দিয়ে পানির সেচ পাম্পে আগুন ধরিয়ে দেয়।
বারান্দার লোহার গ্রিলের (বেষ্টনী) ও রুমের ভাঙা দরজার অংশ দেখিয়ে আবু জাহেদের মা রোকেয়া বেগম বলেন, ছেলে নেশাগ্রস্থ হয়ে বাড়িতে এসে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। আমাদের মারধর করলে আমরা বড় ছেলের রুমে চলে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিই। কিন্তু সে দরজা ভাঙচুর করে ভেতরে চলে আসে। এবং আমাদের সবাইকে মেরে বাড়িতে পেট্রোল দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুংকার দিয়ে চলে যায়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূর উল্লাহ্ মুঠোফোনে জানান, ফসলি ক্ষেত কেটে নষ্ট এবং পানির সেচ পাম্পে আগুন লাগানোর অভিযোগ পেয়ে আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দিয়েছি। এই ধরনের নিকৃষ্ট মানুষের প্রতিকার দরকার। বাবা-মাকে মারধরের বিষয়টি আমাকে জানানো হয়নি। বাবা-মার গায়ে হাত তোলার মতো এমন নিকৃষ্ট কাজ করে থাকলে আইনের সহযোগিতায় ওই সন্তানের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিবো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) খাঁন নুরুল ইসলাম জানান, আগের অভিযোগটির বিষয়ে তিনি জানতেন না। আজ বাবা-মাকে মারধর ও ফসল নষ্ট করে সেচ পাম্পে আগুনের খবর জেনে সেখানে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।














