চট্টগ্রাম নগরীর ফরিদের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোটার রয়েছেন ২৩৮১ ভোট। ভোট পড়েছে ১৫৬ ভোট। এরমধ্যে নৌকা প্রতীকে পড়েছে ১৫৩টি ও আম প্রতীকে ৩টি। মোমবাতি ও চেয়ার এবং একতারা প্রতীকে কোনো ভোটই পড়েনি।
মোহরা নজিরিয়া নঈমিয়া মাহমুদিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোটার হচ্ছে ২৫২০ ভোট। এরমধ্যে নৌকা প্রতীকে পড়েছে ১২২ ভোট। বাকি চার প্রার্থী কোনো ভোট পাননি। শুধু এই দুটি ভোটকেন্দ্রে নয়, ১২ কেন্দ্রে কোনো ভোট পাননি ইসলামী ফ্রন্ট প্রার্থী স উ ম আবদুস সামাদ। মোমবাতি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। ভোটে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকায় বিজয়ী প্রার্থীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধরা হচ্ছে তাকে। তিনি ভোট পেয়েছেন ৫ হাজার ৮৭ ভোট। আর বিজয়ী প্রার্থী আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৭ হাজার ২০৫ ভোট। আবদুস সামাদ ১০ ভোটের কম পেয়েছেন ৭৮ কেন্দ্রে। তিন অঙ্কের সংখ্যা পেরিয়েছে মাত্র ১২টি কেন্দ্রে।
ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব আবদুস সামাদ বলেন, মানুষ তো ভোট দিতে পারেনি। সকাল থেকে ভোটকেন্দ্র দখল ও ইভিএম মেশিনের বাটন টিপে দেওয়ায় মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ১০টার পর বেশির ভাগ কেন্দ্র দখল হয়ে যায়। এরপর আমরা ভোটার আনায় উৎসাহ দেয়নি।
গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নোমান আল মাহমুদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আরও ৪ প্রার্থী। এরমধ্যে আলোচনায় আসেন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ও ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ। প্রচার-প্রচারণায় ভোটের মাঠে সরব ছিলেন এ দুই দলের প্রার্থী, কর্মী-সমর্থকেরা। তবে ভোটের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা ও আতঙ্কে ছিলেন দুই দলের প্রার্থীরা। ভোটকেন্দ্রের বুথে (গোপন কক্ষ) ‘ভূত’ বা অবাঞ্চিত লোকের উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন ইসলামী ফ্রন্টের আবদুস সামাদ ও ইসলামিক ফ্রন্টের এসএম ফরিদ উদ্দিন।
ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী চেয়ার প্রতীকে অধ্যক্ষ মাওলানা এসএম ফরিদ উদ্দিন ভোট পেয়েছেন ১৮৬০ ভোট। ৩৪ কেন্দ্রে কোনো ভোট পাননি তিনি। আর ১০ ভোটের কম পেয়েছেন ১০৭ কেন্দ্রে। শতকের ঘর পেরিয়েছে ৪ কেন্দ্রে।
মাওলানা ফরিদ উদ্দিন বলেন, ভোটের প্রতি মানুষের আস্থা না থাকায় জনগণ ভোট দিতে আসেনি। বুথে সরকারি দলের নিজস্ব লোক ছিল। তারা ইভিএম বাটন টিপে ভোট নিয়েছেন। মানুষ ভোট দিতে না পেরে ফিরে গেছেন। নির্বাচন কমিশন জনগণের আস্থা ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের হিসাবে গড়ে ভোট পড়েছে ১৪ শতাংশ। আর ৮৬ শতাংশ মানুষ তো অনাস্থা দিয়েছে।
২০২০ সালে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনেও অংশগ্রহণ করেছিলেন মাওলানা এসএম ফরিদ। তখন ভোট পেয়েছিলেন ৯৯২ ভোট। এবার পান ১৮৬০ ভোট। বিশ্লেষণ বলছে মাওলানা এসএম ফরিদের ভোট বেড়েছে ৫০ শতাংশের কাছাকাছি।
চট্টগ্রাম-৮ আসনে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৭ হাজার ৬৫১ জন। ১৯০ কেন্দ্রে ভোট ভোট পড়েছে ৭৫ হাজার ৩০৫ জন। ভোটের হার প্রায় ১৪ শতাংশ।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক এডভোকেট আকতার কবির চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ভোটের প্রতি অনাস্থা, অনাগ্রহ ও অবিশ্বাসের কারণে মানুষ ভোটকেন্দ্রবিমুখ হয়ে পড়েছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন। ভোটের এ অচলায়তন থেকে উত্তরণ প্রয়োজন।














