ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে অবশেষে নাটকীয়তার অবসান ঘটেছে। ১১ দলীয় জোটের শরিক দল এলডিপির প্রার্থী এম এয়াকুব আলী আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াত প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলমকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন এয়াকুব আলী। চট্টগ্রাম নগরীর নাসিরাবাদ এলাকায় এয়াকুব ট্রেড সেন্টারে এলডিপির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
এতে তিনি বলেন, মনোনয়ন জটিলতায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার কারণে প্রতীক পেতে দেরি হয়েছে। তাই নির্ধারিত সময়ে প্রচার শুরু করা যায়নি। এতে গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হয়েছে এবং স্বল্প সময়ে সব নির্বাচনী কার্যক্রম সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এয়াকুব আলী বলেন, এ ছাড়া ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ বিবেচনায় আমি এ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একই সঙ্গে ১১- দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের অন্যতম প্রধান শরিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ ফরিদুল আলমের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করছি।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মাঠে কাজ করে আসছিলেন চিকিৎসকদের সংগঠন এনডিএফের নেতা ডা. ফরিদুল আলম। পরবর্তীতে ১১ দলীয় জোট গঠনের পর জোটের শরিক এলডিপিকে সাতটি আসন দেওয়া হয়, যার মধ্যে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) অন্যতম।
জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এলডিপির দক্ষিণ জেলা সভাপতি এম এয়াকুব আলীকে এ আসনের প্রার্থী করা হলেও নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করে। আপিল করেও তিনি মনোনয়ন ফিরে পাননি। এ অবস্থায় কৌশলগত কারণে জোটের প্রধান দল জামায়াত তাদের প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলমের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেনি এবং তিনি নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে যান।
পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে রিটের মাধ্যমে এয়াকুব আলী তার প্রার্থিতা ফিরে পান। তখন জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জামায়াত প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলম এলডিপি প্রার্থীকে সমর্থন দেন। তবে প্রার্থিতা ফিরে পেলেও এয়াকুব আলীকে ভোটের মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচারণায় দেখা যায়নি।
এলডিপির দলীয় সূত্র জানায়, মনোনয়নসংক্রান্ত জটিলতায় সময়ক্ষেপণ হওয়ায় নির্বাচনি কার্যক্রমে পিছিয়ে পড়েন এয়াকুব আলী। জোটের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে তিনি তুলনামূলক শক্তিশালী জোটপ্রার্থী জামায়াতের ডা. ফরিদুল আলমকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির জসিম উদ্দিন বলেন, এলডিপি প্রার্থী আমাদের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন। চট্টগ্রাম-১২ আসনে ১১ দলীয় জোটকে বিজয়ী করতে আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।
চট্টগ্রাম-১২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫২ হাজার ৬৯৫ জন। আসনের অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন বিএনপির মোহাম্মদ এনামুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এস এম বেলাল নূর, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ আবু তালেব হেলালী, জাতীয় পার্টির ফরিদ আহমদ চৌধুরী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইন।














