চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফতেয়াবাদ এলাকায় এক পান দোকানদারের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১ জুলাই) গভীর রাতে বালুরটাল এলাকা থেকে মো. সরওয়ার খান ওরফে মনু (৪৭) নামে ওই দোকানদারের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (২ জুলাই) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাটহাজারী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নুরুল আলম।
নিহত সরওয়ার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের ফতেয়াবাদ এলাকার মুল্লুক শাহ হাজীর বাড়ির মৃত মো. সেকান্দর সওদাগরের ছেলে। তার এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
জানা গেছে, সরওয়ার খান ফতেয়াবাদ স্কুল গেটের বিপরীতে বড় ভাই মোহাম্মদ সেলিমের মুদি দোকানের সামনে পান বিক্রি করতেন। গতকাল শনিবার সকাল ৭টায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে আধা কিলোমিটার দূরে বালুরটাল এলাকায় চলে যান সরওয়ার। সকাল ১০টার দিকে স্থানীয়রা ওই এলাকায় খেলতে গেলে সরওয়ারকে সেখানে শুয়ে থাকতে দেখেন। গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় তাকে খোঁজাখুঁজি করে পরিবার। অবশেষে গভীর রাতে বালুরটাল এলাকায় মুখে ফেনা বের হওয়া অচেতন অবস্থায় সরওয়ারকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। রাত আড়াইটায় পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
স্থানীয় সুত্রের দাবি, জমিজমা নিয়ে সরওয়ারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে তার বড় ভাই সেলিমের বিরোধ চলছিলো। বিষয়টি দুই ভাই একাধিকবার ঝগড়াঝাটি ও মারামারিতেও লিপ্ত হন। ফলে সরওয়ারের মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে তার মরদেহের পোস্টমর্টেম করা উচিত বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
হাটহাজারী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নুরুল আলম বলেন, ফতেয়াবাদ বালুরটাল এলাকা থেকে সরওয়ার নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছি। মরদেহের শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে সরওয়ার দীর্ঘদিন থেকে হাই ব্লাড প্রেশারের রোগী ছিল। গতকাল শনিবার বাড়ি থেকে বের হয়ে বালুরটাল এলাকায় তার বাগান দেখতে যায়। বাগান দেখে আসার পথে হৃদরোগে মারা যেতে পারে। তবে ময়নাতদন্ত শেষে জানা যাবে কি কারণে মারা গেছে।
এদিকে ময়নাতদন্তের মাধ্যমে জামাইয়ের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে চান সরওয়ারের শ্বশুর মোহাম্মদ জামাল। তবে বড় ভাই মো. সেলিমের ধারণা, তার ছোট ভাই স্ট্রোকে মারা গেছেন।














