ঢাকা, -

আলোচিত সংবাদ

‘মোখা’য় লন্ডবন্ড সেন্ট মার্টিন, ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় দ্বীপবাসী

ছবিঃ সংগৃহীত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের পূর্ব পাশের জেটি ঘাট ধরে একটু এগিয়ে গেলেই মূল বাজার। সে বাজারে প্রবেশ করতেই দেখা গেল ঘূর্ণিঝড় মোখার রেখে যাওয়া ক্ষত। প্রায় সাড়ে ৩০০ দোকান নিয়ে বাজারটির পাকা দোকানগুলো অক্ষত থাকলেও আধাপাকা এবং টিনশেড দোকানের ছাউনি উপড়ে গেছে। কিছু কিছু দোকান ভেঙে গেছে আংশিক। 

সোমবার (১৫ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের মালিকরা কিছুটা ভাঙা অংশ সংস্কারে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বাজারের কয়েকটি দোকানও খুলেছে। ওই দোকানগুলোতে মানুষের আনাগোনা, প্রয়োজনীয় মালামাল বা উপকরণ কিনছেন দ্বীপের মানুষ।মোখা'র ক্ষতচিহ্ন কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের প্রবাল দ্বীপটির বাজার হয়ে পশ্চিম পাড়ার সড়কটির বিভিন্ন পয়েন্টজুড়ে রয়েছে ঘূর্ণিঝড়ে ভেঙে যাওয়া গাছ। যদিও এর মধ্যে গাছ কেটে ও সরিয়ে সড়ক চলাচল উপযোগী করা হয়েছে। তবে সড়কের দুপাশের আধাপাকা ঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ছোট কটেজ আংশিক বা সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে।

আরও পড়ুন  মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী সংক্ষিপ্ত সফরে এখন ঢাকায়

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়নের মেম্বার খোরশেদ আলম জানান, চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবকরা মিলে সড়কে ভেঙে পড়া গাছ সরিয়ে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। সেন্ট মার্টিন জুড়ে মোখার ক্ষত, ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টাসোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্বীপে এসে সরেজমিনে পরিদর্শন করে গেছেন। বিকাল ৫টায় দলটি দ্বীপ থেকে টেকনাফের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। দ্বীপের সার্বিক চিত্র তারা দেখেছেন, ক্ষয়-ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণও তাদের জানানো হয়েছে।

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, দ্বীপের ১ হাজার ২০০ ঘর ও কটেজ ভেঙে গেছে। তার মধ্যে ১ হাজার বসতঘর। এসব ঘরের মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে দিনযাপন করছে। জেলা প্রশাসক সোমবার দ্বীপ পরিদর্শনে এসে শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন। একই সঙ্গে প্রশাসনের সহযোগিতায় ইউনিয়নের পক্ষে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।কক্সবাজারে ১০ হাজার ঘর বিধ্বস্ত, ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা | BD24Live.comমুজিবুর রহমান জানান, দ্বীপের ২ হাজারের বেশি গাছ ভেঙে গেছে।

আরও পড়ুন  এলএনজি আনতে এবার ওমানের সঙ্গে নতুন চুক্তি

বিকাল ৫টায় জেটি ঘাটে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, প্রাথমিকভাবে দ্বীপের মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবারের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত হবে। মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের মূল আঘাত হয়েছে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে। এর বাইরে টেকনাফ উপজেলায় কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন  সিরিয়া ইস্যুতে জরুরি বৈঠকে বসছেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপের ১ হাজার ঘর, টেকনাফের অন্যান্য উপকূলীয় এলাকায় ৩ হাজার ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। এদিকে রোহিঙ্গা শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় মোখার তাণ্ডবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে ২৭৮টি শেল্টার, ৩২টি লার্নিং সেন্টার, একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, ২৯টি মসজিদ/মক্তব ও ১২০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২ হাজার ৫৪৮টি শেন্টার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১ হাজার ৬১১ জন রোহিঙ্গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ঘূর্ণিঝড় চলাকালীন অতিঝুঁকিতে থাকা ৫ হাজার ৩৮৬ জন রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

ট্যাগঃ

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের আরও

সর্বশেষ